বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

স্বাস্থ্যসহকারী টিটু হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন

স্বাস্থ্যসহকারী টিটু হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডা: আব্দুল জলিল সরদারের বড় ছেলে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বাস্থ্য সহকারী মো. ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার ও নাগেরপাড়া ইউনিয়নবাসী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে নাগের পাড়া বাজার সড়কে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। পরে নাগের পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

এ সময় মো. ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর মা রাশিদা বেগম, বাবা আব্দুল জলিল সরদার, স্ত্রী মিলি বেগম ও ছেলে অনিক, মুসফিক, আফিফ, গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান শিকদার, নাগেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন সরদার, নাগের পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এনায়েত করিম মিলু মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন মাষ্টার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

নিহত টিটুর মা রাশিদা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলেকে যারা হত্যা করে আমার বুক খালি করেছে তাদের সর্বচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি।

নিহত টিটুর বাবা মো. আ: জলিল সরদার বলেন, আমার প্রতিপক্ষ মোজাম্মেল খান ও তার লোকজনরা। তারা আমাদের বাড়িতে আনাগোনা করতো। তারাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি। ছেলের হত্যাকারীদের সর্বচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করছি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ঢাকেরহাটি গ্রামে গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নাগেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সরদারের ছেলে স্বাস্থ্যকর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন টিটু (৩৯) তার ঘরের খাটের সঙ্গে পা ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর গোসাইরহাট থানায় একটি অপমত্যু মামলা হয়।

পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গোসাইরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোটকাচনা গ্রামের মৃত মান্নান খানের ছেলে মোজাম্মেল খান, জাহিদ খান, ঢাকেরহাট গ্রামের মোতালেব বেপারী, শহিদুল সরদার, রফিক সরদারসহ ১৩ জনকে ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে মামলার আসামী জাহিদুল ইসলাম খানকে (২৫) গ্রেফতার করে গোসাইরহাট থানা পুলিশ।

গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী মুঠোফোনে বলেন, টিটুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরে টিটুর বাবা আব্দুল জলিল সরদার বাদি হয়ে গোসাইরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার আসামী জাহিদুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে। টিটুর ময়নাতদন্তর রিপোর্ট এখনও হাতে পায়নি। রিপোর্ট পেলে বলা যাবে টিটুর মৃত্যুর রহস্য কি?