শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী
শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

নিজের ইচ্ছেমতো অফিস করেন গোসাইরহাটের আইসিটি কর্মকর্তা মাইনুল

নিজের ইচ্ছেমতো অফিস করেন গোসাইরহাটের আইসিটি কর্মকর্তা মাইনুল

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম অফিস করেন নিজের ইচ্ছা স্বাধীন মতো। তার মন চাইলে তিনি অফিস করেন, মন না নাইলে তিনি অফিস করেন না। এমনটাই অভিযোগ সাধারণ মানুষের। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে করেকবার তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ গত রোববার ১২ সেপ্টেম্বর বেলা ১২ টার সময় তার অফিসে গেলে অফিসটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও সে ফোন রিসিভ করেননি। পরে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইনের মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। মাইনুল সাহেব কেন অফিসে আসেননি তা বলতে পারবোনা। তিনি ছুটি নিয়েছেন কি না তাও আমার জানা নেই। আমি অফিসে আসলে বলতে পারবো।’

এই প্রতিবেদক জানতে পারেন সোমবারও ১৩ সেপ্টেম্বর মাইনুল ইসলাম অফিসে আসেননি। তার অফিসটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য মাইনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, ‘আমি তিন দিনের ছুটিতে আছি।’

মাইনুল ইসলাম তিন দিনের ছুটি নিয়েছেন কি না এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইনের মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে তার দপ্তরে তেমন কোন কাজকর্ম নেই। এই জন্যই হয়তো সে মাঝেমধ্যে অফিসে আসেন না। আজকে আমি অফিসে আছি। আপনি অফিসে এসে সরাসরি কথা বলেন। সব কথা তো ফোনে বলা যায়না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস করেন, তার পাশেই উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের অফিস। ব্রডব্যান্ড লাইনের জন্য সরকারী অন্য অফিসের লোকজন বা যে কোন কাজের জন্য সাধারণ মানুষ গিয়ে সব সময় আইসিটি অফিসটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। মানুষের অভিযোগ, তিনি মাসের বেশিরভাগ দিনই অফিস করেন না। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসায় সরকারের দেওয়া শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব দেখাশোনার দায়িত্ব উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের। অভিযোগ আছে তিনি সেগুলো ঠিকমতো তদারকি করেন না। কিছুদিন আগে সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সামন্তসার থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের একটি ল্যাপটব উদ্ধারা করা হয়।

গোসাইরহাট উপজেলায় কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব চালু করা হয়েছে, প্রতিটি ল্যাবে কি পরিমান প্রযুক্তি সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর সঠিক ব্যবহার বা ঠিকঠাক সচল আছে কি না তা জানার জন্য সাংবাদিকরা উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের কার্যালয়ে একাধিক বার গেলেও অফিসটি তালাবদ্ধ দেখতে পান।

সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকার এ খাতকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বব্যাপী প্রয়োগ ও ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিতকরণ; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা সমূহ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানো, অবকাঠামো নিরাপত্তা বিধান; রক্ষণাবেক্ষণ; বাস্তবায়ন; সম্প্রসারণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও কম্পিউটার পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-সার্ভিস প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়।

উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তার কাজ হচ্ছে- মাঠ পর্যায়ের সকল ধরনের আইসিটি সমস্যার সমাধানে সহায়তা প্রদান। আইসিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও কর্মসূচি সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান। কল সেন্টারের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থানে স্থাপিত কম্পিউটার ও ভাষা শিক্ষা ল্যাব হতে সেবা গ্রহণ, অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদান। হালনাগাদ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনসাধারণকে সরকারি তথ্য প্রাপ্তিতে সেবা প্রদান। এ সম্পর্কিত যে কোন অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদান। সরকারি ও আধা-সরকারি পর্যায়ে আইসিটি কারিগরি সহায়তা প্রদান। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারেগুলোকে সহায়তা প্রদান। সরকারি অফিস সমূহে বিভিন্ন অনলাইন ই-পদ্ধতি চালুকরণে সহায়তা প্রদান। জাতীয় ব্যাকবোন নেটওয়ার্কের সাথে সার্বক্ষনিক সংযুক্ত রাখা। ই-ফাইলিং এর প্রশিক্ষন ও পরামর্শ প্রদান ইত্যাদি। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম এ সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে তিনি নিজের খেয়াল খুশি মতো অফিস করেন। তিনি ইচ্ছে হলে অফিস করেন, ইচ্ছা না হলে অফিস করেন না। মাসের বেশিরভাগ দিনই তিনি তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ ব্যপারে যেন দেখার কেউ নেই।