শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

মাছের ঘেরে ৮ ফিট লম্বা কুমির, সুন্দরবন করমজল ব্রিডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে

মাছের ঘেরে ৮ ফিট লম্বা কুমির, সুন্দরবন করমজল ব্রিডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আলাওয়ালপুরের মাছের ঘের থেকে কুমির উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলাওলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান বেপারী। তিনি বলেন, কুমিরটি ওই এলাকার পাজালকান্দি গ্রামের খলিল কাজির মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ১৪ নভেম্বর রাত ৮টায় উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের পাজাল কান্দি গ্রামের খলিল কাজির মাছের ঘের থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় বড় একটি কুমিরকে মাটি খুড়তে দেখেন পুকুরে কাজ করতে থাকা কর্মীরা। তা দেখে পুকুরে তারা একটি ফাঁদ পেতে কুমিরটি ধরে। কুমিরটির দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮ ফিট। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে জানালে তাদের কর্মীরা গিয়ে দেখে যায়।

স্থানীয়রা বলেন, এত বড় একটি কুমির এখানে কীভাবে আসলো, সেটি নিয়ে আমরা এখন আতঙ্কে আছি। আমাদের বাড়ির পাশে ছোট একটি নদী আছে। এখানে এতো বড় কুমির থাকার কথা না। এরকম কুমির সাধারণত খুলনা-বাগেরহাট এলাকায় দেখা যায়।

আলাওলপুর চেয়ারম্যান ওসমান বেপারী জানান, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পাজালকান্দি এলাকার মো. খলিল কাজির মাছের ঘেরের পাড়ে এক গর্ত দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ফাঁদ পেতে কুমিরটি ধরা হয়। কুমিরটি বর্তমানে পাজালকান্দি এলাকায় শিকল ও রশ্মি দিয়ে বাঁধা আছে।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাফি বিন কবির বলেন, কুমিরটি দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। এব্যাপারে রাতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে কুমিরের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছি। তারা দেখে বলেছেন এটা নোনা পানির কুমির। তারা পাঁচ সদস্যর একটি দল সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন।

এরপর মঙ্গলবার ১৫ নভেম্বর বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ্ পাটোয়ারির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল এসে কুমিরটিকে উদ্বার করে। উদ্ধাকৃত কুমিরটিকে প্রথমে খুলনার বয়রায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনের করমজল ব্রিডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানায় তারা।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ্ পাটোয়ারি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কুমিরটি এদিকে আসতে পারে। এছাড়া, ফ্রেশ ওয়াটারের স্তর কমে যাওয়া ও জোয়ারের সময় লবনাক্ত পানি প্রবেশ করায় এটি এদিকে আসতে পারে।’

এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাফি বিন কবির বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে আমাদের মত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে খবর দিয়ে এনেছি। আমরা এখনো নিশ্চিত না যে আরেকটা কুমির আছে কিনা। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য বলেছি।’


error: Content is protected !!