
জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি গ্রামে মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইসমাইল পেদা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। একই ঘটনায় নারী সহ আহত হয়েছে আরো ৫ জন। পুলিশ সংঘর্ষের সাথে জরিত ৪ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাসির উদ্দিনের সমর্থক শুকুর মাঝি এবং কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সরদারের সমর্থক ইসমাইল পেদার মধ্যে জমিজমা ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে দ্বন্দ চলে আসছিল। এই দ্বন্দের জেরে মঙ্গলবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটকিাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শুকুর মাঝির সমর্থকরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইসমাইল পেদা ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করে এলোপাথারীভাবে কোপাতে থাকে। এতে ইসমাইল পেদার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তার উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারত্মক জখম করে।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের আঘাতে আলমগীর পেদা (৫৫), মানিক পেদা (৩৫), সুমি আক্তার (২০) ও আল আমিন পেদা (২৬) আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্বজনরা নেয়ার সময় ইসমাইল পেদার প্রতিপক্ষ রেজাউল করিম রাজা মিয়া পাইক আহতদের শরীয়তপুর হাসপাতালে নিতে বাঁধা প্রদান করে। পরে গোসাইরহাট থানা পুলিশের সহায়তায় শরীয়তপুর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ইসমাইল পেদাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাত ২টায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় আহত ইসমাইল পেদার স্ত্রী বাবলী বেগম বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামী করে গোসাইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার সঙ্গে জরিত থাকার অভিযোগে গোসাইরহাট থানা পুলিশ রেজাউল করিম রাজা, সবুজ পাইক, সোহাগ পাইক ও ইমরান মাঝিকে আটক করেছে।
আহত ইসমাইল পেদা বলেন, জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে শুকুর মাঝির হুকুমে জয়নাল মাঝি, শাহাবুদ্দিন মাঝি, মহি মাঝি, মনির মাঝি ও রাজা মিয়া সহ প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো ছেনদা দিয়ে কুপিয়ে আমাদের সবাইকে গুরুতর আহত করেছে। তারা আমার কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এছাড়া আমার সারা শরীর কুপিয়ে জখম করেছে। আমি এর বিচার চাই।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি এবং রাতেই ৪ জনকে আটক করা হয়। থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।