সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং

ঈদের জানজট এড়াতে শরীয়তপুরের জাজিরায় আরেকটি ঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে

ঈদের জানজট এড়াতে শরীয়তপুরের জাজিরায় আরেকটি ঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে

শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথের শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গল মাঝির ঘাটে ঈদের আগেই নির্মাণ করা হবে আরেকটি নতুন ঘাট। ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বিআইডব্লিউটিএন চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক জানিয়েছেন, ঈদের আগেই নতুন ঘাট পাবেন এ পথের যাত্রীরা। ২৮ এপ্রিল নতুন ঘাট দিয়ে যান পারাপার শুরু হবে।

শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরিঘাটে সোমবার সকালে এসব কথা বলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক।

তিনি বলেন, নতুন ঘাট নির্মাণ ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্তে মাঝির ঘাট লঞ্চ ঘাট সরিয়ে নেয়া হবে।
এর আগে ঘাট নির্মাণের সম্ভব্যতা যাচাই করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ ছাড়া মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে রাতে ফেরি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার কারণ বিবেচনা করে ওই নৌপথে সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তিনটি ফেরি চলাচল করছে। বিকল্প ঘাট হিসেবে জাজিরার সাত্তার মাদবর, মঙ্গল মাঝির ঘাটে গত বছর ডিসেম্বরে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন ফেরিতে পারাপার করে। ওই নৌপথে ফেরি চলতে গিয়ে গত বছরের ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর একটি পিলারের সঙ্গে রো-রো ফেরির ধাক্কা লাগে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর সঙ্গে কয়েক দফা ধাক্কা লাগে। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। এরপর নদীর স্রোত কমে গেলে ওই নৌপথে দিনের বেলা স্বল্পপরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। নাব্যতা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ওই পথে ফেরি চালু করা যায়নি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে নৌপথ দুটিতে দিনে তিনটি এ টাইপের ফেরি, দুটি ডাম্প ফেরি ও একটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। বিকেল পাঁচটার পর বাংলাবাজার ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন মঙ্গল মাঝির ঘাটে তিনটি ফেরি চলাচল করে। দিনে–রাতে মিলে নৌপথ দুটিতে ১ হাজার থেকে ১২’শ যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। জাজিরার মঙ্গল মাঝির লঞ্চঘাটটি ৪’শ মিটার পূর্ব দিকে সরিয়ে সেই স্থানে একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক জানান, ‘নতুন ঘাট নির্মাণের জন্য মাঝিরঘাট লঞ্চ ঘাটটি বর্তমান অবস্থান থেকে ২’শ মিটার পূর্ব দিকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের হাতে সময় খুবই কম। আগামী ২৮ তারিখ থেকে নতুন ঘাট প্রস্তুত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দু–এক দিনের মধ্যেই জাজিরায় নতুন ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় লঞ্চ বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা যাতে ফেরিতে পদ্মা পারাপার হতে পারে তাই ফেরি ঘাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ‘ঈদের সময় একযোগে শিমুলিয়া-মাঝিরঘাট এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার দুই রুটেই দিনরাত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বাংলাবাজার ঘাটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে মাঝিরঘাট ফেরি ঘাটটি ব্যবহার করতে ঘাটটির আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’