বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

বৃত্তির টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী-নাদিয়া হক(অর্চি)

বৃত্তির টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী-নাদিয়া হক(অর্চি)
বৃত্তির টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী-নাদিয়া হক(অর্চি)

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্র,ইলেকট্রনিক মিডিয়া,রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিরোনামের প্রধান বিষয়বস্তু করোনা ভাইরাস।করোনা ভাইরাসের নিষ্ঠুর আঘাতে সারা বিশ্ব যখন স্থবির, তখন অর্ধাহারে -অনাহারে দিন কাটাচ্ছে দেশের কর্মহীন মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্ত শ্রেণির সাধারণ মানুষ।তখনই মানবতার টানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার,জনপ্রতিনিধি,
সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,সামাজিক সংগঠনসহ তরুণ প্রজন্মের আলোর দিশারি গণ।

“সকলের তরে সকলে আমরা,প্রত্যেকে আমরা পরের তরে” প্রবাদটির যথাযথ মিল পাওয়া যায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পুনাই সরদার কান্দি গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়া হক অর্চি’র সাথে। পিতা মাস্টার মো.নুরুল হক দেওয়ান এবং মাতা কাকলী আক্তার এর বড় কন্যা নাদিয়া হক (অর্চি)।৮নং ক্রোকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০সহ সাধারণ বৃত্তি লাভের খ্যাতি অর্জন করে ।সরকারি জাজিরা মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে জে.এস.সি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি পায়।এখন,মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যয়নরত নবম শ্রেণির ছাত্রী অর্চি।

নাদিয়া হক এর মা কাকলী আক্তার জানান, জে.এস.সি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি পেয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করে আমার বড় মেয়ে।বৃত্তি টাকায় নতুন ল্যাপটপ কিনবে বলে বায়না ধরে।কিন্তু ওই পরিমাণ টাকায় ভালো ল্যাপটপ ক্রয় করতে পারবে না ভেবে তার সিদ্ধান্ত স্থির করে।বর্তমান পরিস্থিতি পরিবেশ সময়ের প্রতিকূলে।ফলে অর্চি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো অর্থই অসহায়, দারিদ্র্যদের মাঝে বিতরণ করবে বলে মত প্রকাশ করে।প্রথমত তার সিদ্ধান্তে আমার মতামত ছিলো না।কিছু দিন পরে আমিও আমার মত পরিবর্তন করে নিয়ে মেয়েকে তার লক্ষ্যে অটল হওয়া প্রতি উৎসাহ দেই।আমি মনে করি,মেয়ের সিদ্ধান্ত সময় উপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত।ফলে ১০ টি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে।

অর্চি রুদ্রবার্তা-কে বলেন,আমরা তরুণ প্রজন্মের সদস্য।এসময় মাথায় কেমন যেন আজব আজব স্বপ্ন,কল্পনা-ঝল্পনা,গল্প ঘুর পাক খায়।নিজেদের অন্যদের মাঝে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে।এটা করবো ওটা করবো।আসলে তেমন কিছুই করার সুযোগ হয়নি সমাজ দায়বদ্ধতার কারণে ।কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতিতে ঘরে একা বসে থাকতে পারিনি।এসেছি অসহায়,ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।একা সম্ভব হয়নি তাই,সামাজিক শিক্ষামূলক সংগঠন “শরীয়তপুর ছাত্রকল্যাণ সংস্থা” এবং অন্যান্য সংগঠনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সাহায্য করেছি।এ যেন আমার পরম পাওয়া।


error: Content is protected !!