নড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মাকসুদা(১৭) নিখোঁজের ঘটনায় অবশেষে নড়িয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। ২৮ জুন রাতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে অপহরণের অভিযোগ এনে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। অভিযুক্তরা হলেন শেখর শেখ, মাস্টার হাফজ শেখ, শিরিন বেগম, সুসমিতারা ও দোলা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১১ জুন প্রধান অভিযুক্ত শেখ অপর ৪ আসামির সহায়তায় একটি কালো প্রাইভেট কারে মাকসুদাকে তুলে নিয়ে যায়। ওই দিন রাতেই নড়িয়া থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগির পরিবার। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগির পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এর আগেও ১৭ মে একবার নিখোঁজ হয়েছিল মাকসুদা। ওই ঘটনায় শেখর শেখের দাবি অনুযায়ী ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে ২৯ মে খুলনা থেকে মাকসুদা কে ফেরত দেয় শেখর ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের সদস্যরা।

মামলার বাদী মাকসুদার মা অভিযোগ করে বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার দিন থানায় অভিযোগ করেও মেয়েকে খুঁজে পেতে পুলিশের সহায়তা পায়নি। গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করলে ২৮ জুন রাতে মামলা রেকর্ড করেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনি শংকর আজকের পত্রিকাকে বলেন, এর আগে ১৭ মে মেয়েটি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল। ২৯ মে মেয়েটির সন্ধান পায় পরিবার। তাই ১১ জুন মেয়েটির পুনরায় নিখোঁজ হলে বিষয়টি তদন্ত করে মামলা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান সনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার অপর আসামি কে আইনের আওতায় আনা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাষ্টার আব্দুস সালাম ও সিরাজুল ইসলাম চুন্নু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ সভাপতি জাকির হোসেন ডিকেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক হোসেন অপু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য সেকান্দার আলম রিন্টু, চুন্নু মাদবর, দেলোয়ার দেওয়ান, ইকবাল মাঝি, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোজাম্মেল মুন্সি, রুবেল হাওলাদার, অলীল মোল্যা, নুরুল আমিন পাঠান, আবু সাইদ, হাছান মৃধা, ডাঃ শওকত আলী, নুরুল আলম মাঝি ও শিমুল।

Facebook Comments Box