বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং

নড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে চাঁদাবাজি মামলা

নড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে চাঁদাবাজি মামলা

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মামাতো-ফুপাতো ভাইদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ হলেও মামলা হয়েছে চাঁদাবাজির। আর এ মামলার আসামি হয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধকে স্বল্পকালিন কারাভোগ করতে হয়েছে। পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে আরো অনেককে। এ ঘটনা এখন শরীয়তপুরের সর্বত্র আলোচিত।

সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামের মিয়াচান ও আয়ুবালি ছৈয়াল ১০ জুন ডিঙ্গামানিক মৌজার বি,আর,এস ৪১৫১ নং দাগের ৫৪ শতাংশ জমি কিনেন একই গ্রামের দুই সহোদর তুহিন ও শাহিন সরদারের কাছ থেকে। তার ৫ দিন পর একই দাগে আজিজ হাওলাদার ৪ শতাংশ জমি কিনেন রাজন ও সুজন মোড়লের কাছ থেকে। পরবর্তীতে আয়ুবালি ছৈয়াল তার জমি ভরাট করতে গেলে উক্ত জমিটি নিজের বলে দাবি করেন আয়ুবালির ফুপাতো ভাই আজিজ হাওলাদার।

এক পর্যায়ে এই জমি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আয়ুবালি ছৈয়াল জমিতে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে মিমাংসার জন্য নড়িয়া থানার সহযোগিতা চান। ১৫ জুলাই নড়িয়া থানার এসআই জসিম উভয় পক্ষের নিয়োজিত ২ জন আমিনের উপস্থিতিতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করেন।

পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই সকালে কাঠহুগলি ব্রিজের উপর জমি নিয়ে তর্কাতর্কি শেষে দুই গ্রুপ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে আজিজ হাওলাদার ব্রিজের উপরে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত আজিজ হাওলাদারের ছেলে বাদি হয়ে ১১জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা ঘটনা স্থানে ছিলেন না, তাদের মধ্যে অনেকেই ঢাকায় থাকেন। স্থানীয় হাসু ছৈয়ালের ছেলে জুলহাস ছৈয়াল জানান আজিজ হাওলাদারে সাথে আয়ুবালি ছৈয়ালের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল তারই প্রেক্ষিতে দুই গ্রুপের হাতাহাতি হয় এতে আজিজ হাওলাদার আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না কিন্তু আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। আমি এখন বাড়ি ঘরে যেতে পারিনা, এর সুষ্ঠ সমাধান হওয়া উচিৎ।

কাঠহুগলি গ্রামের রব বেপারি বলেন, আয়ুবালি ছৈয়াল এখানে জমি কিনেন। পাশেই আজিজ হাওলাদারও জমি কিনেন। আজিজ হাওলাদার আয়ুবালি ছৈয়ালের জমির উপর দিয়ে রাস্তা বানালে তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। রাস্তা কাটা নিয়েই তাদের মধ্যে মারামারি হয়। কিন্তু এবিষয় নিয়ে নড়িয়া থানার আগে থেকেই অবগত ছিলেন তারপরও চাঁদাবাজির মামলা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে নড়িয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর জসিম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ঝামেলা নিয়ে আয়ুবালি ছৈয়াল থানায় একটি অভিযোগ দেন। ওসি স্যার আমাকে দায়িত্ব দেন ওই বিষয়টা দেখার জন্য। তাদেরকে আমরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে বসে ঝামেলা মিট করতে বলেছিলাম। বসা ও হয়েছিল আমি ও ২ পক্ষের আমিন উপস্থিত থেকে তাদের জমি মেপে বুজিয়ে দিয়ে আসছি। পরে যে কি নিয়ে আবার মারা মারি করছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।