শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী
শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

নড়িয়ায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে হাতুরী ও রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

নড়িয়ায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে হাতুরী ও রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ও দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে আজিজ হাওলাদার (৫০) নামে এক ঠিকাদারকে হাতুরী ও রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১২ জুলাই সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের কাঠহুগলী গ্রামের আহাম্মদ নগর তালতলা পাকা ব্রীজের উপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আসামী করে নড়িয়া থানায় মামলা করেছেন হামলার শিকার আজিজ হাওলাদারের ছেলে নাঈম হাওলাদার। আজিজ হাওলাদার উপজেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামের মৃত মহর আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি মাটি ভরাটের ঠিকাদারী করেন।

আসামীরা হলেন ডিঙ্গামানিক এলাকার সোলাইমান ছৈয়াল (৪০), জাকির ছৈয়াল (৩০), জুলহাস ছৈয়াল (২৮), নিরব ছৈয়াল (২৩), আইউব আলী ছৈয়াল (৫৫), মারুফ ছৈয়াল (২৪), শাহ আলম ছৈয়াল (৩২), কারন ছৈয়াল (২৩), কিরন ছৈয়াল (২৩), সোবাহান ছৈয়াল (৫২), আশিক ছৈয়াল (২৪), হৃদয় ছৈয়াল (২২), শাকিল ছৈয়াল (২১), শাকিল ছৈয়াল (২০) ও সাগর ছৈয়াল (২৫)।

মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সাত দিন পূর্বে আসামীরা ঠিকাদার আজিজ হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এসময় আজিজ হাওলাদার চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন এবং এ ঘটনা এলাকার গন্যমান্য লোকদের জানান। এতে আজিজ হাওলাদারের উপর ক্ষিপ্ত হন। আসামীরা। গত ১২ জুলাই সকাল ৮টার দিকে এলাকার মামুন ভূইয়াকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে নড়িয়া উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন আজিজ হাওলাদার। তারা ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের কাঠহুগলী গ্রামের আহাম্মদ নগর তালতলা পাকা ব্রীজের উপর পৌঁছাতে ওঁৎ পেতে থাকা আসামীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পুর্ব শত্রুতা ও চাঁদা না দেওয়ার জেরে আসামীরা আজিজ হাওলাদারকে হাতুরী ও লোহার রডে দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে গুরুতর জখম করে। পরে আজিজ হাওলাদারের কাছে থাকা ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। পরে স্থানীয়রা আজিজ হাওলাদারকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কার্তিকপুর শিকদার মেডিকেলে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে আজিজ হাওলাদারকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাথে সাথে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আজিজ হাওলাদার বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।

মামলার বাদী আজিজ হাওলাদারের ছেলে নাঈম হাওলাদার বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামীরা আমার বাবার উপর হামলা চালায়। তারা হতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে আমার আাবার হাত ও পা ভেঙে দিয়েছে। আসামীরা জামিনে এসে আবারও আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। শীঘ্রই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।