শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের তারাবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাবাচ্ছুমকে (১৪) হত্যার প্রতিবাদে বৃহসপতিবার দুপুর ১টায় ঘন্টাব্যাপী মানবন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদ সড়কে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মানববন্ধনে একাত্ত্বতা প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষ। এ সময় মানববন্ধন থেকে খুনী আজিজ মৃধার ফাঁসি দাবী করা হয়।
মানবন্ধন থেকে জানা যায়, চরসেনসাস সিকদার কান্দি গ্রামের সৈয়দ আলী মৃধার ছেলে আজিজ মৃধা (২২) এ বছর তারাবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে অকৃতকার্য হয়। সখিপুর ইউনিয়নের কালাই মাঝির কান্দি গ্রামের বাদল মিয়ার মেয়ে তাবাচ্ছুম ওই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। যাতায়াতের সুবিধার্থে তাবাচ্ছুম বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী নানা সিরাজুল ইসলাম মোল্যার বাড়ি থেকে পড়াশুনা করত। একই বিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুবাদে আজিজের সাথে তাবাচ্ছুমের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুযোগে গত ২১ জুন বৃহস্পতিবার নানা বাড়ি থেকে তাবাচ্ছুমকে নিয়ে আজিজ পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে আজিজের বিরুদ্ধে তাবাচ্ছুমের পরিবার সখিপুর থানায় অভিযোগ করে।
গত ২৩ জুন শনিবার ফেসবুকের মাধ্যমে তাবচ্ছুমের পরিবার জানতে পারে ঢাকার সভারের আশুলিয়া থানা পুলিশ ব্রিফকেসে ভর্তি তাবাচ্ছুমের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে নিহতের মামা গোলাম মোস্তফা ও চাচা স্বপন ঢাকার সরোয়ারদি হাসপাতালের মর্গে থেকে তাবাচ্ছুমের মরদেহ চিহ্নিত করে।
মানববন্ধন থেকে নিহত তাবাচ্ছুমের সহপাঠি মুনতাহা, লিমা, আইরিণ, আরিফ জানায়, তাবাচ্ছুমের সাথে খুব খারাপ করা হয়েছে। যারা তাবাচ্ছুমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে অপহরণ করে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। যাতে আর কোন মেয়ের সাথে এমন না হয়। এ হত্যাকারির ফাঁসির যেন দেশে একটা দৃষ্টান্ত হয়। আর কোন জানোয়ারও যেন এ ধরণের হীন মানসিকতার পূনরাবৃত্তি করতে সাহস না পায়।
মানবন্ধন থেকে নিহতের মামা গোলাম মোস্তফা জানায়, তাবাচ্ছুম ১৪ বছরের একটা নাবালিকা কিশোরী। ওকে ভূল বুঝিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে আজিজ শ্বাসরোধ করে হত্যা পরবর্তী ব্রিফকেসে ভরে সাভারের আশুলিয়া থানা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে। ফেসবুকের মাধ্যমে সন্ধান পেয়ে তাবাচ্ছুমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। এর পূর্বে আজিজকে আসামী করে সখিপুর থানায়ও একটা অভিযোগ করা হয়েছে। তাবাচ্ছুম বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আজিজের পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন তারাবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বালা, প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুল হক, শিক্ষানুরাগী সদস্য ও চরসেনসাস ইউপি সদস্য বোরহান আহমেদ মুন্সী প্রমূখ।

মন্তব্য করুন