প্রবাসীর পাঠানো লাগেজ নির্দিষ্ট ঠিকানায় ডেলিভারি না করে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, এক প্রবাসী তার দেরিতে আসা লাগেজ হোম ডেলিভারির জন্য কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি ঠিকানা দিয়েছিলেন। কিন্তু হোম ডেলিভারির জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান অপারগতা জানিয়ে ওই জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ নামক পয়েন্টে যাত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডেকে এনে লাগেজ ডেলিভারি করে। প্রবাসীর বৈধ অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কাছে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ জানান, এয়ারলাইনস হোম ডেলিভারির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে পেমেন্ট করেছে বলে জানায়। তবে তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান জেটলাইনস সারভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হোম ডেলিভারি না দিয়ে যাত্রীর ঠিকানা থেকে বেশ দূরে হাইওয়ের একটি পয়েন্টে লাগেজ ডেলিভারির কথা স্বীকার করেন। ঘটনাটি এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতে উদঘটিত হয়।
টিকিটের শর্ত ও এয়ারলাইনসের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী যাত্রীর দেরিতে আসা লাগেজ যথাযথভাবে হোম ডেলিভারি না দেওয়ায় জেটলাইনস সারভিসেস লিমিটেডকে দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, দেরিতে আসা লাগেজ হোম ডেলিভারির পরিবর্তে আর কখনো সুবিধাজনক হাইওয়ে পয়েন্টে ডেলিভারি যেন না হয়, সে বিষয়ে সব এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তিতে প্রবাসী ও যাত্রীরা হয়রানির শিকার হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের নিজস্ব নীতিমালা বা টিকিটের শর্তাবলিতে থাকে যে লাগেজ দেরিতে এলে তারা বিনা খরচে তা যাত্রীর হোটেল বা বাসস্থানের ঠিকানায় পৌঁছে দেবেন। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশেষ ক্ষেত্রে ওই লাগেজে শুল্কযোগ্য পণ্য থাকার কথা জানালে যাত্রীকে এসে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করে লাগেজ নিতে হয়। এজন্য এয়ারলাইনসগুলো সাধারণত হোম ডেলিভারির জন্য একটি ডেলিভারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকে।
লাগেজ দেরিতে এলে করণীয় সম্পর্কে তিনি জানান, লাগেজ বেল্টে না পেলে বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই এয়ারলাইনসের ব্যাগেজ কাউন্টারে গিয়ে প্রোপার্টি ইররেগুলারিটি রিপোর্ট (পিআইআর) ফরম পূরণ করে তার কপি ও ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এই ফরমেই ডেলিভারি ঠিকানা লিখে নেওয়া হয়। এছাড়া বিমানবন্দরে লাগেজ দেরিতে এলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস হোম ডেলিভারির পাশাপাশি যাত্রীকে তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা দেবে।
তিনি আরও জানান, বিমানযাত্রায় লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এয়ারলাইনস বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন লাগেজ সরবরাহ করবে। কোনো কারণে ২১ দিনের মধ্যে লাগেজ ফেরত না পেলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগও রয়েছে।
শেষে তিনি লেখেন, আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় দেরিতে আসা লাগেজ হোম ডেলিভারি না পেলে বা অন্য কোনো তথ্য, পরামর্শ বা অভিযোগ থাকলে এয়ারপোর্ট হটলাইন নম্বরে (১৩৬০০) জানানো যাবে। এছাড়া বিমানবন্দরে বৈধ সেবা পেতে হয়রানি বা যাত্রী অধিকার লঙ্ঘিত হলে এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি বা ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে।




মন্তব্য করুন