ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ওই এলাকায় বিজিবি থাকবে।

আপাতত পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে, প্রয়োজনে প্লাটুনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তিনি জানান, আজ থেকে গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে চলে এসেছেন। কোনাবাড়ি, শফিপুর ও কালিয়াকৈরসহ আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা শিল্প পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এসময় দায়িত্ব পালনে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় শ্রমিকদের।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকরা। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। মহাসড়কের ওপর মাটিভর্তি বস্তা ও কাঠ-বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শ্রমিক আন্দোলনের মুখে বিশৃঙ্খলা রোধে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ২০টির মতো শিল্প কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে। মহাসড়ক থেকে সরে যেতে পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের একটি গাড়ির সামনের গ্লাসসহ অন্তত ১৫-১৬টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করলে তারা ইট-পাটকেল ছোড়ে। উত্তেজিত শ্রমিকদের সরানো ও যানমালের নিরাপত্তায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।