দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে অর্থায়নের অভিযোগের তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সন্দেহভাজন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে আরও ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংস্থাটির দুটি গোয়েন্দা ইউনিট এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে।
কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি চলছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন না থামায় প্রশ্ন উঠেছে—কারা শ্রমিকদের রাস্তায় নামাচ্ছে, আন্দোলনকারীরা সবাই প্রকৃত শ্রমিক কি না কিংবা এর পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের ভূমিকা আছে কি না। এই প্রেক্ষাপটেই এনবিআরের এই পদক্ষেপ।
তালিকায় থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন সালমান এফ রহমান, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ ও তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম আব্দুল মান্নান এবং তার পরিবারের সদস্য ফরিদা মান্নান; সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্য ফরিদা ইলিয়াস।
এনবিআরের তালিকায় ইনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রুপটির কর্ণধার আবদুস সালাম মুর্শেদীর পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য রাশিদা আহমেদ, শারমিন সালাম, তানভীর আহমেদ ও শেহরিন সালাম ওইশির ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। মন্ডল গ্রুপের ৪৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আলীম মন্ডল, তারিন তাসলিমা, জুবায়ের মন্ডল, সুলতানা খাতুন, মাসুদা খাতুন, হাজী আব্দুল মান্নান মন্ডল, মোমেনা খাতুন, আব্দুল মমিন মন্ডল, মাহমুদুল হাসান ও জান্নাতুল ফেরদৌস। এ ছাড়া আসাদুর রহমান সিকদার, গোলাম ফারুক তালুকদার, মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, সৌরভী রহমান, শিরীন সুলতানা, তাসলিমা আক্তার, খন্দকার ফারুক কায়সার, নাহিদ খন্দকার ও হাজী আব্দুল মজিদ মন্ডলের নামও তালিকায় আছে।
গিভেন্সি গ্রুপের কর্ণধার খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ছাড়াও মাসুমা খাতুন লিপা, মাহমুদা খাতুন ও খতিব আব্দুল হাদির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে এনবিআর। আলোচনায় থাকা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এ গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন হোসনেয়ারা বেগম, ইঞ্জিনিয়ার মো. আতিকুর রহমান, মাহমুদা বেগম, একেএম মোশাররফ হোসাইন, তাসমিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ, ফারিয়া রহমান, ফাহিম মোশাররফ ও হাসিব মোশাররফ।
নিপা গ্রুপের সানজিদা চৌধুরী, খসরু চৌধুরী, এম মনিরুল ইসলাম ও মো. টিপু সুলতানের নামও তালিকায় এসেছে। উয়েল গ্রুপের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখতে বলেছে এনবিআর। এ গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাসরিন আক্তার, আব্দুস সালাম, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ তারিকুল ইসলাম, আসিফ হাসান, জান্নাতুল ইসলাম, আফরোজা বেগম, নাসরীন আফরোজ, আকতারুন্নেছা ও জিনাত ইসলামের নাম রয়েছে। তুসুকা গ্রুপের তালিকায় আছেন ফিরোজ আলম, রাফায়েত উল্লাহ খান, শফিকুল ইসলাম, ইকবাল কবীর, ফয়জুর রহমান, আরশাদ জামাল, ইকরামুল হক, আক্তারুজ্জামান সাগর ও আক্তারুজ্জামান রিপন।
এনবিআর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব শনাক্ত এবং জব্দের অনুরোধ করা হয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ পলাতক। শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। কবে নাগাদ তা শেষ হবে, তা জানাতে পারেননি এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; তার ভাষ্য, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।




মন্তব্য করুন