ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশি ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এক নতুন বাধ্যবাধকতা চালু করেছে। এখন থেকে পর্যটন, চিকিৎসা কিংবা ব্যবসা—যে উদ্দেশ্যেই হোক, ভারতীয় ভিসার আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত এক পাতার ‘ভিসা আন্ডারটেকিং ফর্ম’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এই অঙ্গীকারনামা ছাড়া কোনো আবেদনই গ্রহণ করা হবে না বলে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাইকমিশনের ভিসা আবেদনবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতেই এই পদক্ষেপ।
নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে হাইকমিশনের নির্ধারিত লিংক থেকে ফর্মটি নামিয়ে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তা পূরণ করে স্ক্যান করতে হবে এবং অনলাইন ভিসা আবেদন পোর্টালে (এনআইসি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন পোর্টাল) আবেদনের সঙ্গে স্ক্যান করা কপিটি সংযুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত ফরম্যাটের বাইরে অন্য কোনো ফর্ম ব্যবহার করলে সেটি গ্রহণ করা হবে না বলেও নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছে।
ফর্মের শুরুতে আবেদনকারীকে নিজের নাম লিখতে হবে। সঙ্গে অঙ্গীকার করতে হবে—ভিসা আবেদনে যে উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত সফরে তিনি কেবল সেই উদ্দেশ্যেই যাবেন। একই সঙ্গে ঘোষণা দিতে হবে, আবেদনের দিন তিনি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের অধিক্ষেত্রের বাসিন্দা এবং আবেদনে দেওয়া সব তথ্য সঠিক।
ফর্মের প্রথম অংশে ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত পাঁচটি তথ্য চাওয়া হয়েছে—পাসপোর্টে থাকা পূর্ণ নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্মতারিখ এবং ঢাকায় বসবাসের বর্তমান ঠিকানা। দ্বিতীয় অংশে ভারত সফরের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে। পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা সম্মেলনে অংশগ্রহণের মতো উদ্দেশ্য সেখানে স্পষ্ট করতে হবে।
এরপর তিনটি বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হবে আবেদনকারীকে। প্রথমত, ভারত সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন এবং ভিসার নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে দেশটিতে অবস্থান করবেন না। দ্বিতীয়ত, ভারতে অবস্থানকালে দেশটির প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও সংস্কৃতি মেনে চলবেন। তৃতীয়ত, কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না।
ফর্মে সতর্ক করা হয়েছে, এসব শর্ত ভঙ্গ হলে ভিসা বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভারতীয় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফর্মের শেষে আবেদনকারীকে নিজের স্বাক্ষর দিতে হবে এবং ফর্ম পূরণের স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বাবা ও মা—উভয়ের স্বাক্ষর নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে নির্ধারিত ফর্মটি যথাযথভাবে পূরণ ও অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যও আবেদনকারীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে হাইকমিশন।




মন্তব্য করুন