বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড আংগারিয়া প্রায় ৩০ পরিবার পানি বন্দি

শরীয়তপুর পৌরসভার আংগারিয়া এলাকায় পানিবন্দি অবস্থায় চিত্র। ছবি: দৈনিক রুদ্রবার্তা।

শরীয়তপুর পৌরসভার আংগারিয়া ৯ নং ওয়ার্ড কাশাভোগ এলাকায় মান্নান বেপারি’র বাড়ি সহ প্রায় ৩০ টি পরিবার পানি বন্দি হয়ে রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি। স্কুলের শিক্ষার্থী সহ শত-শত মানুষের যাতায়তের পথ সহ বসত বাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

এছাড়াও শরীয়তপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও সে অনুযায়ী নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না পৌরবাসী এমন অভিযোগও করেন এলাকাবাসী।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ১ লা মে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রভাবশালীরা প্রাচীন খালগুলো ভরাট করে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি শহরের পুরনো শতাধিক পুকুর, জলাশয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বালু দিয়ে ভরাট করায় পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে প্রায় ৩০টি বাড়ির মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছেন।

এলাকার মান্নান বেপারি বলেন, আমরা পৌর সভার মেয়র মহোদয়কে জানিয়েছি এবং ডেকেও এনেছি। আমরা এই রাস্তা দেখিয়েছি। নতুন রাস্তা নির্মাণের সময় আমরা বলেছিলাম। পানি নিষ্কাশনের জন্য একটু জায়গা রাখলে আমাদের জন্য ভালো হবে। সেটা আর করা হয় নাই। তার জন্য আমরা পানি বন্দি হয়ে আছি। ঘর থেকে বের হতে পারিনা, টয়লেটে যেতে পারি না,একটু পানি ব্যবহার করতে পারতেছি না। আমাদের পারিবারিক ভাবে থাকাই কষ্ট।

আঃ গণি মিয়া বলেন, আপনার কি ভাবে কি করবেন। ডিসি সাহেব আইছে, পৌর সভার মেয়র সাহেব আইছে। রাস্তা জুন মাসে করার কথা। হ্যায়া করতেই আছে। আজ ২/৩ বছর যাবৎ। আসা যাওয়া পর্যন্তই। তাছাড়া কোন কাজ হয় না।

আসমতারা বলেন, পানিতে আমাদের ঘর দুয়ার তলিয়ে থাকে,বাচ্চাদের নিয়ে বেড় হতে কষ্ট হয়ে যায়। স্কুল যেতে বাচ্চাদের অনেক অসুবিধা হয়।

আয়শা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ দুই বেলা কাজ করে খেতে হয়। হাঁটু পানি পার হয়ে বাজার ঘাটে কাজ করতে যেতে হয়। হাজার দিন আছাড় খেয়ে পইরা যাই। আষিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ মাস পযর্ন্ত পানি থাকে এই জায়গায়। মেয়র সাহেবের কাছে অনুরোধ আমাদের রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থাটা যেনো করে দেয়। এছাড়া আমাদের কোন দাবী নাই।

বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর এ পৌর শহরে রয়েছে মাত্র ৩/৪ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। যার ৮০ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকা।

এ বিষয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জীব নাগ বলেন, আমি এলাকা ঘুরে দেখেছি। পৌরসভার ফান্ডের অবস্থা অপ্রতুল। এটা ভেতরের কথা। তবে এটা বৃষ্টির পানি নেমে যাবে।


error: Content is protected !!