বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

ব‍্যক্তি কলহের জেরে বাড়িতে হামলা করে ১১টি ঘর কুপিয়ে ভাংচুর লুটপাট

ব‍্যক্তি কলহের জেরে বাড়িতে হামলা করে ১১টি ঘর কুপিয়ে ভাংচুর লুটপাট

শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ফকির মাহমুদ আকন কান্দি গ্রামে ব‍্যক্তিগত কলহের জের ধরে বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ২৬ মে দুপুর ২টার দিকে ঐ গ্রামে বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুরের এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৫/৬ মাস পূর্বে বিলাসপুর ইউনিয়নের শফি কাজির মোড়ের গোলামালী মোল্লার ছেলে আলামিন মোল্লা ঢাকা কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকায় মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আটক হয়। পরে ঐ এলাকার মেম্বারের ছেলের নিকট এর বিচারের ভার বসে। বিচারে ঐ এলাকায় বসবাসরত ফকির মাহমুদ আকন কান্দি গ্রামের শহিদুল ইসলাম মাদবরের ছেলে মো: রাজিব মাদবরের সহযোগিতায় আলামিনের ১ লাখ টাকা জরিমানার রায় আসলেও রাজিবের কারনে ২০’হাজার টাকা জরিমানা হয়। কারন, রাজিব মাদবরের সাথে মেম্বারের ছেলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্ব চলে আসছিল। এ বন্ধুত্বের কথা আলামিন জানতে পেরে দেশী লোক হিসেবে রাজিবের সহযোগিতা নেয়। এ সহযোগিতাই রাজিব মাদবরের জন‍্য কাল হয়ে দাড়ায়। দীর্ঘ ৫/৬ মাস পরে মঙ্গলবার দুপুরে আলামিন মোল্লাসহ মনিরুদ্দিন সরদার কান্দির তফাজ্জল মুন্সী ও আ: খালেক মুন্সির ছেলে সুমন মুন্সি লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্রসহ ৭/৮ জন লোক নিয়ে জরিমানার ঐ ২০’হাজার টাকা চাইতে আসে এবং বলে তুই জরিমানার ঐ ২০’হাজার টাকা খাইছোস। এ কথা বলে রাজিবকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কিলঘুষি ও লাথি মারে এবং ২০’হাজার টাকা চাইতে থাকে। কিন্তু রাজিব বলে, আমি তোর টাকা খেতে যাব কেন? বরং তোকে তো আমি আরও সহযোগিতা করে উপকার করেছি। চিৎকারের খবর তার বাড়ির অন‍্যান‍্য ঘরের লোক জানতে পারলে, তারা এসে প্রতিবাদ করে রাজিবকে রক্ষা করে আলামিন মোল্লাসহ সবাইকে মেরে তাড়িয়ে দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বেলা ৩টার দিকে মেহের আলী মুন্সী ও মনিরুদ্দিন সরদার কান্দির প্রায় ২’শ থেকে আড়াইশো লোক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রাজিব মাদবরের বাড়ি হামলা করে ১১/১২ টি ঘরবাড়ি কুপিয়ে ভাংচুর করে ও ঘর থেকে ৮/৯ স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা পরিমাণ জিনিসের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ বিষয়ে রাজিব মাদবর বলেন, আলামিন মোল্লা আজকে লাঠিসোটাসহ ৭/৮ জন লোক নিয়ে হঠাৎ করে আমার বাড়িতে এসে ২০’হাজার টাকা চায়। আমি বলি, কিসের টাকা দিব তোকে। তখন আলামিন মোল্লা বলে, ৫/৬ পূর্বে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে যে ২০’হাজার টাকা নিয়েছিস, সেই টাকা। এরপরে আমি বলি, সেই টাকার ব‍্যপার তো মিমাংসা হয়ে গেছে। তখন আলামিন মোল্লা বলে, তুই সে ২০’হাজার টাকা ওদের দেস নাই, আমি জেনেছি ওরা বলেছে, তুই নিজে খেয়েছিস। এ কথা বলে আমাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কিলঘুষি ও লাথি মারে এবং ২০’হাজার টাকা চাইতে থাকে। কিন্তু আমি বলি, আমি তোর টাকা খেতে যাব কেন? বরং তোকে তো আমি আরও সহযোগিতা করে উপকার করেছি। চিৎকারের খবর তার বাড়ির অন‍্যান‍্য ঘরের লোক জানতে পারলে, তারা এসে প্রতিবাদ করে আমাকে রক্ষা করে আলামিন মোল্লাসহ সবাইকে মেরে তাড়িয়ে দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বেলা ৩টার দিকে মেহের আলী মুন্সী ও মনিরুদ্দিন সরদার কান্দির প্রায় ২’শ থেকে আড়াইশো লোক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়ি হামলা করে ১১/১২ টি ঘরবাড়ি কুপিয়ে ভাংচুর করে ও ঘর থেকে ৮/৯ স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা পরিমাণ জিনিসের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
রাজিব মাদবরের পিতা শহীদুল ইসলাম মাদবর বলেন, ঢাকাতে আলামিনের সাথে মহল্লার ছেলেদের মেয়েলী ব‍্যপারে দ্বন্দ্ব হয় এবং সেটা অনেক পূর্বেই মিমাংসা হয়ে যায়। সেখানে আলামিনের ২০’হাজার টাকা জরিমানা হয়। আমার ছেলের সাথে ঐ মহল্লার মেম্বারের ছেলের সম্পর্ক ভালো বিদায়, মেম্বারের ছেলেকে বলে আমার ছেলে আলামিনকে উপকার করে। এখন ঐ টাকা আমার ছেলের নিকট চাইতে এসে ১০/১২ ঘরকে কুপিয়ে ভাংচুর করে। এতে আমাদের বাড়ির ২০ লাখ পরিমান জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর উপযুক্ত বিচার আমি প্রশাসনের নিকট চাই।

প্রত‍্যক্ষদর্শী আ: রব মাদবর, হালিমা বেগম ও হাবিব মাদবরের স্ত্রী বলেন, আমাদের পাশের মেহের আলী মুন্সী ও মনিরুদ্দিন সরদার কান্দির দুই-আড়াইশো লোকজন ছেনদা, রামদা, সরকি ও লাঠসোটা নিয়ে আমাদের বাড়ি হামলা করে। ওদের আসতে দেখে আমাদের বাড়ির লোকজন ভয়ে বাড়ির পিছনে সরে যায়। আমাদের খালি বাড়ি পেয়ে বাড়ির সামনের বেড়া ও ১১টি ঘর কুপিয়ে ভাংচুর করে এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরে থাকা নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়ে যায়। এর একটি সঠিক বিচার না হলে, আমরা এখানে বসবাস করতে পারবো না। আমরা পদ্মানদী ভাঙ্গা মানুষ। পৌরসভার মধ্যে একটু জমি ক্রয় করে এখানে বসবাস করছি, তাতেও শান্তি পাচ্ছি না। এর উপযুক্ত বিচার চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত মাষ্টার সালাউদ্দিন মাদবর বলেন, এটা কোন রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব না। ব‍্যক্তিগত কলহের জেরে বাড়িঘর ভাংচুর হয়েছে। যা আপত্তিজনক। যে ঘটনা আমরা বাড়ির অন‍্য কেউ জানিও না। আমি জাজিরা বাজারে ভাড়া থাকি। আমার মা, ছোট ভাই ও চাচারা এখানে থাকে। আমাদের বিলাসপুরের পুরান বাড়ি পদ্মানদীতে ভাঙ্গার পরে এখানে জমি কিনে বাড়ি করেছি। যে ঘটনা এখানে এসে দেখলাম, তাতে আমাদের ঘরসহ বাড়ির ১১টি ঘরের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নগদ টাকাসহ মালামাল লুটপাট হয়েছে। এর সঠিক বিচার আমি প্রশাসনের নিকট দাবি করছি।

আলামিন মোল্লাকে না পেয়ে তফাজ্জল মুন্সী ও সুমন মুন্সির বাড়ি গিয়ে তফাজ্জল ও সুমনকে পাওয়া যায়নি।

পরে সুমন মুন্সীর ভাবী বলেন, আমরা ৩ বছর যাবৎ শহীদুল মাদবরের থেকে ১ লাখ টাকা পাই। এটা ঐ বাড়িতে চাইলে গেলে ওরা আমার দেবরসহ সবাইকে মারধর করে। এ মারধরের সংবাদ পাইয়া আমাদের গ্রামের মানুষ সহ‍্য করতে না পেরে, ওদের বাড়িতে হামলা করতেই পারে!

এলাকাবাসী বলেন, এভাবে বাড়িঘরের উপর হামলা করা আসলেই আপত্তিজনক। এটা ঠিক হয়নি। এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।

জাজিরা থানা ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাজিরা এলাকার জন‍্য মারামারি ও লুটপাট একটি নিত‍্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিনত হয়েছে। আজকে জাজিরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে ব‍্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মাষ্টার সালাউদ্দিন মাদবরের বাড়িতে হামলা করে কুপিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট হয়। রাজিব মাদবর নামের একটি ছেলের সাথে ঢাকাতে আলামিন মোল্লার টাকার একটি বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। ঐ টাকা রাজিবের নিকট জোর করে চাইতে আসলে, ওরা তিরষ্কার করে আলামিন মোল্লাসহ ওর সাথে আসা সবাইকে তাড়িয়ে দিলে, ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে ঐ বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মামলা রুজু হলে, আমরা আমাদের আইনী পদক্ষেপ নিব।


error: Content is protected !!