রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং

প্রবাহমান খাল মসজিদের নাম করে ভরাট করেন দক্ষিণ তারাবুনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান!

প্রবাহমান খাল মসজিদের নাম করে ভরাট করেন দক্ষিণ তারাবুনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান!

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নে মসজিদের নাম করে ৪০ বছরের পুরানো একটি প্রবাহমান খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ছমিদ মাঝি দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিনের পুরানো খালটি অপরিকল্পিতভাবে ভরাট করায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে পানি প্রবাহ। জলাবদ্ধতার হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫০ একর আবাদি জমি। বন্ধ হয়ে গেছে নৌকা চলাচল। ফলে খালটি দখল মুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, দক্ষিনতারাবুনিয়া ইউনিয়নের চরশিরিশ এলাকা থেকে আফামোল্যার বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি দিয়ে আশেপাশের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি থেকে পানি গড়িয়ে মূল পদ্মায় এসে পড়তো। খালের পানির সাথে পলিমাটি প্রবাহিত হয়ে আশেপাশের জমি গুলো প্রতিবছর উর্বর হয়ে উঠতো। বর্ষাকালে ছোট বড় নৌকা করে ফসল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করতো স্থানীয়রা। কিন্তু কয়েকদিন আগে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ছমিদমাঝি বালু ফেলে খালটির দক্ষিনাংশের মুখ পুরোপুরিভাবে ভরাট করে ফেলে। এতে করে বর্ষা মৌসুমের শেষেও ঐ এলাকার আবাদি জমি গুলো থেকে পুরোপুরিভাবে পানি অপসরন হতে পারে নি।

না প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন (জামাল মিয়া, আক্তার হোসেন) ব্যাক্তি বলেন, আমাদের এলাকা ও ফসলের জন্য খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ছমিদ মাঝি প্রভাব খাটিয়ে খালটি ভরাট করে ফেলেছে। বর্ষা আসলে আমাদের আবাদি জমিতে জলাব্ধতা সৃষ্টি হবে। নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা খালটি সচল রাখার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ করছি।

কিন্তু এ বিষয়ে ছমিদ মাঝি বলেন, এই খালটি আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে কেঁটে ছিলাম। খালের যেখানে ভরাট করেছি সেটি আমার রেকর্ডিয় সম্পত্তি। মসজিদের জায়গা বাড়াতে সেটি ভরাট করেছি। এ খাল দিয়ে এখন তোমন কোন নৌকা বা পানি চলাচল করেনা।

এ বিষয় ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব তানভীর আল নাসীফ বলেন, খাল ভরাটের খবর শুনে আমি তাৎক্ষনিক সেখানে তহসিলদারকে পাঠিয়েছি। খালটি যেহেতু দীর্ঘদিনের পুরানো পানি প্রবাহ সচল রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছি।