Sunday 21st July 2024
Sunday 21st July 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে স্বাধীনতার চেতনা ও মন্দিরের মূল্য ২০০ টাকা!

শরীয়তপুরে স্বাধীনতার চেতনা ও মন্দিরের মূল্য ২০০ টাকা!

সোমবার (২২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শরীয়তপুর পৌরশহরের মনোহর বাজার মহাসড়কের পাশে মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থিত ৭১’এর গণহত্যা’র স্মৃতি স্তম্ভ সহ একটি কালী মন্দির। চারপাশে বাউন্ডারি করা। স্মৃতি স্তম্ভ ও কালী মন্দিরে সমনে রয়েছে একটি গেইট। প্রতি সোমবার গেইট খোলা হয় ছাগলের হাটের জন্য। এমন একটি পবিত্র স্থানে ছাগলের হাট!
১৯৭১ সালে মহান স্বাধিনতা সংগ্রামে এই অঞ্চলের মুক্তিকামি মানুষের অকাতর আত্মত্যাগ স্বাধীনতার ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা। ৭১’এর ২২ মে পাক হানাদার বাহিনী তাদের দোসর স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় এই অঞ্চলে সর্ব প্রথম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এবং এক দিনেই এই এলাকায় ৩০০ (তিন শতাধিক) স্বাধীনতাকামি মানুষকে হত্যা করে। সেই সাথে শতাধিক বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এ পর্যন্ত মোট ৭৩ জন শহীদের নাম পাওয়া যায়। সেই নাম গুলো স্মৃতি স্তম্ভে লেখা রয়েছে।
এমন একটা পবিত্র জায়গায় ছাগলের হাট! এই ব্যাপারে কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। শরীয়তপুর পৌরশহরের মনোহর বাজার মধ্যপাড়া এই স্মৃতি স্তম্ভ শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহসড়কের পাশে অবস্থিত।
মহাসড়কের পাশে গরু-ছাগলের হাট বসানোর বিধি-বিধান নেই। তা স্বত্ত্বেও আইনের তোয়াক্কা না করে মহাসড়কের পাশে বছরের পর বছর চলছে এই গরু-ছাগলের হাট। সড়কের এক পাশে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ও একটি কালী মন্দির সেই জায়গায় বসিয়েছে ছাগলের হাট।
ছাগলের হাট ইজারাদার সোহরাব সিকদারের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, মন্দির কমিটিকে প্রতি হাটে ২০০ টাকা মন্দিরের জন্য দেয়া হয়। এছাড়াও পৌরসভার অনুমতিক্রমে এই হাট বসেছে।
কালী মন্দিরের সভাপতি নীল রতন দাসের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, স্বাধিনতার স্মৃতি স্তম্ভ ও কালী মন্দির একটি পবিত্র জায়গা। এখানে ছাগলের হাট বসানো ঠিক না। আমরা মিটিং ডেকে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করবো। হাট ইজারাদার প্রতি সোমবার ২০০ টাকা কালী মন্দিরে দেয়।
স্বাধিনতার স্মৃতি স্তম্ভে ছাগলের হাট কিভাবে অনুমতি পায়? শরীয়তপুরের পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসিয়ালি কোন অনুমতি নেই। গরু-ছাগল বেশী হলে ওই খানে চলে যায়। আমি হাট ইজারাদারের সাথে কথা বলবো, কি করা যায়।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, গরু-ছাগলের হাট মহাসড়কের পাশে থাকার নিয়ম নেই। শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আগেও এমন অভিযোগ পেয়েছি। আমি পৌরকর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাট ইজারাদারদের ডাকাবো। আপনি ১০০ % নিশ্চিত থাকেন সামনের সপ্তাহ থেকে হাট থাকবে না।