Tuesday 25th June 2024
Tuesday 25th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে প্রকাশ্যে তামাক জাত পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শণ

শরীয়তপুরে প্রকাশ্যে তামাক জাত পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শণ

শরীয়তপুরে প্রকাশ্যে তামাক জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই)। এক রঙা টি-শার্ট, ভ্যান আর নানা বিজ্ঞাপন সামগ্রী নিয়ে জেলাব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কর্মীরা।
গত বছর বাংলাদেশের সিগারেট বাজারে প্রকাশের পর থেকেই প্রচারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজার দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে দূরপ্রাচ্যের এ কোম্পানি।
ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।
কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান আইনের এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনি বিধি নিষেধ এড়িয়ে আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জেটিআই।
চলতি বছরের শুরুতে জাপানিজ কোয়ালিটি শিরোনামে মিডিয়া ক্যাম্পেইনও চালিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জবসার্চ পোর্টাল বিডিজবস এর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রচার চালিয়েছিল তারা। তবে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা’র হস্তক্ষেপে বিডিজবস কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত জেটিআই এর বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এদিকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে জেটিআই এর আগ্রাসী প্রচারণা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, সরকার যেখানে দেশের তরুণ সমাজকে মাদক এবং তামাক থেকে দূরে রাখতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে প্রকাশ্যে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে জেটিআই কিশোর, তরুণসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে তামাকের প্রতি আকৃষ্ট করছে।
বাংলাদেশ মানবধিকার কমিটির শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি এড. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জেটিআই বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের পর থেকেই আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ৪৯ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ এখন তামাক ব্যবসা সম্প্রসারণের লোভনীয় বাজার। দেশের সিগারেট বাজার বছরে ২ শতাংশ হারে বাড়ছে। এসব হিসাব-নিকাশ করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়েই বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করেছে জেটিআই। সিগারেট বাজারে প্রবেশের পর থেকে তারা যেভাবে আগ্রাসী প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে তাতে বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অস্তিত্ব ও প্রয়োগ কার্যত হুমকির মুখে পড়েছে।
‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে বৈদেশিক বিনিয়োগের নামে নতুন কোনো তামাক কোম্পানির প্রবেশ ঠেকাতে হবে’। যোগ করেন এ মানবধিকারকর্মী।
শরীয়তপুরে প্রকাশে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর সদর ইউএনও মোঃ মাহবুবুর রহমান শেখ বলেন, আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। যারা এ কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে আগেও আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়েছি। নতুন করে কেউ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীয়তপুরের কোথাও প্রকাশ্যে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্রদর্শনী দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।