রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে

১০০ শয্যা বিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ঘটনার পর পুরো হাসপাতাল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার খবর পেয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে হাসপাতালের নিচতলার তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা রবিবার সকালে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে প্রবেশ করলে দেখতে পান পলেস্তারা ধসে কক্ষে থাকা ল্যান্ড ফোন, কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবেই তারা ঘটনাটি তত্ত্বাবধায়ককে জানান।

জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগ ১৯৮৫ সালে ৩০ শয্যা নিয়ে একতলা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালটি নির্মাণ করেন। এই একতলা ভবনের উপরেই ২০০৫ সালে বর্ধিত তিন তলা করা হয়। তিন তলা ভবনটি ২০০৮ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে কার্যক্রম চললেও কিছুদিন পরপরই নিচতলা ভবনের বিভিন্ন অংশের ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়তে দেখা যায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুরনো হাসপাতালের পাশেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম মামুনসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা জানান, ঘটনাটি আমাদের মাঝে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করি পুরো সময়টায় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মুনীর আহমেদ খান বলেন, আমি হাসপাতালের যে কক্ষে বসে অফিস করতাম শনিবার গভির রাতে কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। অনেক সময় রাতেও অফিস করি। ভাগ্য ভালো সেদিন রাতে আমি অফিস কক্ষে ছিলাম না। এর আগেও হাসপাতালে কয়েকটি অংশে পলেস্তারা খসে পড়ে। পুরো হাসপাতালটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘটনার পর সদর হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের আবাসিক ভবনের একটি রুমে অফিস করবো। এ ঘটনা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে দুটি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালে মো. ফিরোজ বলেন, আজ ও গতকাল আমরা হাসপাতালের নিচতলা ভবনের কক্ষগুলো পরিদর্শণ করেছি। তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ ফলস সিলিং থাকার কারণে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। আরএমও’র কক্ষটিও ফলস সিলিং থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য কক্ষগুলোতে সীমিত আকারে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, হাসপাতালের ভবনটি পরিদর্শণ করেছি। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় তত্ত্বাবধায়কের অফিস কক্ষ হাসাপাতালের আবাসিক একটি ভবনের কক্ষে শিফট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।