সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা

শরীয়তপুরে মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা

সারা দেশের ন্যায় শরীয়তপুরেও মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রয় ও মজুতের উপর নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা চলবে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের অবাধ বিচরণের পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস অধিদপ্তর।

এ সময় শরীয়তপুরের সুরেশ্বর থেকে গোসাইরহাট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী পদ্মা ও মেঘনা নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় শরীয়তপুরের নিবন্ধিত প্রায় ১৯ হাজার জেলেকে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

মৎস্য বিভাগের সময়পোযোগী এমন সিদ্ধান্তে বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। বাড়ছে মৎস্য রপ্তানীতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তবে প্রজনন মৌসুমে অবরোধকালীন সময়ে ইলিশ জেলেদের সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবী শরীয়তপুর এলাকার জেলেদের।

মৌসুমের শুরু থেকে শরীয়তপুর এলাকার জেলেদের জালে ছিল ইলিশের আকাল। শেষ সময়ে এসে ধরা পড়ছে রুপালী ইলিশ। ঠিক এ সময়েই শুরু হচ্ছে মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য মৎস্য শিকারের অবরোধ।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের অবরোধ চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মঙ্গলবার ( ১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে এর কার্যকারিতা। এ সময়ে সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করণসহ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীকে এক থেকে ২ বছরের জেল অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে খুশী জেলেরাও। ২২ দিনের এমন কর্মহীন সময়ে জেলেদের জন্য দেয়া হচ্ছে সরকারিভাবে বিশেষ মানবিক সহয়তা। তবে প্রদেয় এ বিশেষ সহযোগিতা বাড়ানোসহ নির্ধারিত সময়েই তা প্রকৃত ইলিশ শিকারীদের মাঝে বিতরণের দাবী জেলেদের।

ঠান্ডার বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ মোশারফ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ইলিশ শিকারী জেলে সহায়তা পাচ্ছেন না। যারা ছোট ছোট জাল নিয়ে নদী বা খালে মাছ শিকার করে তারা পাচ্ছেন সহায়তা।

কোদালপুর ৬ নং আড়ৎ এর মৎস্য ব্যবসায়ী সুলতান মৃধা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে বাড়বে মাছের উৎপাদন। যার সুফল ভোগ করবে জেলেসহ ব্যবসায়ীরা। সুফল বুঝতে পেরে কোন জেলেই এখন আর অবরোধকালীন সময়ে মাছ শিকার করতে যাচ্ছে না। তবে এ সময়ে জেলেদের যে সহায়তা দেয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল। জেলেদের সহায়তা বাড়ানো উচিত।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, জেলেদের সচেতন করতে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচার প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলে সমাবেশ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে নদীতে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোষ্টগার্ড, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও র‌্যাব নদীতে নিয়মিত টহল দিবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।