বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং

মালেশিয়ায় মামাকে হত্যার অভিযোগ ভাগিনার বিরুদ্ধে

মালেশিয়ায় মামাকে হত্যার অভিযোগ ভাগিনার বিরুদ্ধে

মালেশিয়ার রাজিব কাজী (২৯) নামে এক শ্রমিককে তার আপন ভাগিনা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পেনাং স্টেটে একটি কারখানার ড্রেন থেকে রাজিব কাজীর অর্ধ গলিত মৃহদেহটি উদ্ধার করে মালেশিয়ার স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোনের ছেলে শাকিল মুন্সিকে (২১) সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ আটক করেছে।

জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল গনি কাজীর ছোট ছেলে রাজীব কাজি প্রায় ৪ বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালেশিয়ায় পাড়ি জমান। দেশটির পেনাং শহরের পার্শ্ববর্তী জুরু সিম্পাং আম্পাতের জেরেরিনিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পাশে অবস্থিত একটি কারখানায় কাজ করতো সে। রাজিবের সাথেই কাজ করতেন তারই আপন বড় বোনের ছেলে শাকিল মুন্সী। তারা দুজনে ঐ কারখানার একটি রুমে অনেকদিন ধরে একসাথেই থাকতেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানার ড্রেনে সিমেন্টের ঢাকনা দিয়ে আটকানো অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ রাজিব কাজীর (২৯) অর্ধ গলিত মৃহদেহটি উদ্ধার করে মালেশিয়ার স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোনের ছেলে শাকিল মুন্সি (২১) কে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দেন তিনি। তবে ঠিক কি কারণে তিনি তার আপন মামাকে হত্যা করেছেন ৩০২ ধারায় তার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে মালেশিয়ার পুলিশ। পুলিশ জানায়, নিহত বাংলাদেশি একটি ইউনিফর্ম তৈরি করার কারখানায় কাজ করা অবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারি নিখোঁজ হয়। তবে নিখোঁজের বিষয়ে কোন পুলিশি রিপোর্ট করা হয়নি।

প্রবাসীর দিগন্ত সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ বছর বয়সী ঐ কারখানার বিক্রয় ব্যবস্থাপক জানান, কারখানার ড্রেনে গন্ধ ও পোকাযুক্ত তার কারখানার শ্রমিকের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। তারপর পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ছুরি, লোহার হাতুরি ও রক্তমাখা চিহ্নযুক্ত একটি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে নিহত রাজিব কাজীর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। নিহতের মা, ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনের কান্না ও আহাজারি থামছেই না। প্রিয় ছোট ভাইকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন নিহতের মেঝো ভাই খালেক কাজী। কান্নাজরিত কন্ঠে তিনি বলেন, এটি কি করলো শাকিল! আমার ভাইকে কেন মারলো? আমি ওর ফাঁসি চাই।

অন্যদিকে, শাকিলের মা মর্জিনা বেগম বলেছেন, আমার ছেলে মালেশিয়ার পুলিশের মাইর সহ্য করতে না পেরে নিজে খুন করছে বলেছে। কিন্তু আসলে ও খুন করে নাই।

এদিকে, খুনের দায় স্বীকার করা শাকিলকে বাঁচাতে শাকিলের বোন জামাই মোঃ নাসির মাদবর তদবির করছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে।

নিহতের ভগ্নিপতি তাইজুল ইসলাম বলেন, আমরা এর সঠিক বিচার চাই। ঘুষ দিয়ে যেন খুনিকে ছাড়িয়ে আনতে না পারে এ জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই।