মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ ইং, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই রমজান, ১৪৪২ হিজরী
মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ ইং
ভেদরগঞ্জে উপজেলা

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের সত্যপুর বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি খালের মধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি খালের উপর আরসিসি পিলার দিয়ে এই দোকান ঘর নির্মাণ করেছে স্থানীয় মৃত আব্দুল হাসেম মীরের ছেলে মোক্তার হোসেন মীর। ইতোমধ্যেই কাজ প্রায় অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে তাঁদের ডাকা হলেও তাঁরা যাননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান ঘরটি নির্মিত হলে বর্ষাকালে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যহত হবে। ইরি মৌসুমে সবুজ প্রকল্পের পানি সেচ ব্যবস্থায়ও অসুবিধা হবে। ওই খাল দিয়ে বর্ষাকালে নৌকায় করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা থেকে মালামাল আনা-নেওয়া হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সত্যপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, খালটি ভরাট করে আরসিসি পিলার করার সময় প্রথমে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা এসে মোক্তার হোসেনকে বাধা দেন। কয়েক দিন পর তাঁরা আবার মাটি ভরাট করে দোকানের কাজ শুরু করেন। তখন নেতারা আর কিছু বলেননি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সত্যপুর মৌজার ওই খালটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আর এস ১০ এবং বি আর এস ১৩ নং খতিয়ানের জমি রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা। সত্যপুর বাজারের পূর্ব পাশে তিন রাস্তার মোড়ে সরকারি ব্রিজের সাথে খালের উপর আরসিসি পিলার দিয়ে মোক্তার হোসেন গং ব্যক্তিরা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের আতাত করার কারনে এলাকাবাসী তাকে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দখল করে এটি নির্মাণ করার ফলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে ব্যাঘাত ঘটবে।
খাল দখর করে দোকান নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ কর্মীদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন দখলদারের পক্ষে এক জনপ্রতিনিধি।

স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য ঘটনা স্থানে গিয়ে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ রুবেল মীর ও ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার আদেশ করেন এবং পরবর্তীতে যেন অবৈধ স্থাপনা করতে না পারে এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাকে দেখা-শুনার দায়িত্ব অর্পন করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় চোরে শুনে না ধর্মের কাহিনী, ভুমি দস্যু মানে না আইনের নীতি । দিনে ও রাতের আধাঁরে অবৈধভাবে উক্ত স্থানে দোকান ঘর নির্মাণ করে যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

এ বিষয়ে মোক্তার হোসেন বলেন, খাস-টাস বুঝি না, আপনার কী আমার জায়গায় আমি মাটি ভরাট করে পাকা বিল্ডিং করে দোকান বানাইতেছি। সরকারের জায়গা হলে পরে বুঝা যায়বোনে।

এ বিষয়ে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব সিকদার জানান, সত্যপুর মৌজার আর এস-১০ ও বি.আর.এস-১৩ নং দাগের খালের মালিক রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ এই জায়গার ব্যপারে উপজেলা সহকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এসে মোক্তার হোসেন গং ব্যক্তিদের কে দোকান ঘর নির্মানের বাধা দেওয়া স্বত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে দোকান ঘর নির্মাণ করেছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, অবৈধ দখলদার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা রুজু করার জন্য আদেশ দিয়েছি। উচ্ছেদ মামলা রুজু হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

অবৈধ দখলের বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর-আল-নাসীফ বলেন, উপজেলা সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্যের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সরকারি জায়গা থেকে দোকানঘর উচ্ছেদ ও বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।