সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং
অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন মালবোঝাই ট্রাক ড্রাইভার।

বিকল্প সড়কের ব্যাবস্থা না করে শরীয়তপুর প্রধান সড়কে ব্রিজে তৈরির কাজ করছেন ঠিকাদার

বিকল্প সড়কের ব্যাবস্থা না করে শরীয়তপুর প্রধান সড়কে ব্রিজে তৈরির কাজ করছেন ঠিকাদার

শরীয়তপুর নড়িয়া রোডে বিকল্প সড়ক না করেই ব্রিজ নির্মনের কাজ চলছে। সড়কে রাখা হয়নি কোন সতর্ক সংকেত, দেয়া হয়নি বেরিগেড। অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন মালবোঝাই ট্রাক ড্রাইভার।

৭ জুন সোমবার বেলা ১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোটাপাড়া থেকে নড়িয়া যেতে কুড়াশি নামক স্থানে সেতু নির্মাণ হচ্ছে। সেতুর জায়গায় বিকল্প হিসেবে কার্লভার্টের উপর নাটবল্টু ছাড়া বেইলী বসিয়েছে। সেই বেইলি সরে গিয়ে মালবাহী ট্রাক উল্টে রয়েছে।

দূঘটনার শিকার ট্রাক ড্রাইভার মিলন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমি বগুড়া থেকে মাল নিয়ে এসেছি। সামনেই বালাখানা মাল নামবে। এই রোডে ঢুকতে আমাকে কেউ নিষেধ করে নাই এবং পথে কোন বেরিগেড বা সংকেত কিছুই দেখি নেই। অল্পের জন্য নিজে বেচে গেলেও ট্রাক ও মালামালের কিছুটা ক্ষতি হয়ে গেলো।

ট্রাকউল্টে যাওয়ার প্রত্যক্ষদর্শি স্থানীয় ইদ্রিস মাদবর দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, বলেন, ঠিকাদার কাজের শুরুতেই অনিয়ম করছেন। বিকল্প রাস্তা না করেই ব্রিজ ভেংগেছে। রাস্তায় কোন নির্দেশনা না দিয়ে কাজ করছে। ফলে অনেক গাড়িই ব্রিজ ভাংগা দেখে ফেরত যায়। অল্পের জন্য ট্রাক উল্টে জানমালের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেলো।

ইজিবাইক চালক নজরুল দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, বিকল্প রাস্তা না থাকায় নড়িয়া যেতে আমাদের তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ না করায় অনেক গাড়ি কোটাপাড়া থেকে বালাখানা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফেরত আসে। কতৃপক্ষের কেউ এই ভোগান্তি দেখে না।

মাহিন্দ্র চালক কবির দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, কোটাপাড়া থকে নড়িয়া ৮ কিলোমিটার পথ যেতে হচ্ছে ১১ কিলোমিটার ঘুরে। যারা চেনে তারা কোটাপাড়া শাবনুর মার্কেট এর পাশ দিয়ে ৩ কিলোমিটার পথ এলাকার ভেতর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এলাকার চিপা (সরু) রোড। একসাথে বড় ছোট অনেক গাড়ি গিয়ে রাস্তায় জ্যাম পরে। অনেক সময় দীর্ঘ সিরিয়ালে থেকে আসতে হয় বালাখান নড়িয়া যাওয়ার মেইন রোডে। অথচ এই বালাখানা সড়ক কোটা পাড়া থেকে আধা কিলোমিটার হবে। উন্নয়ন কাজের নামে হয়রানির প্রতিকার চাই।

ঢাকা থেকে আগত নড়িয়াগামী মাইক্রোবাস চালক দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, রাস্তায় কোন বেরিগেড নাই! বিকল্প কোন সড়ক রাখা হয় নাই। আমি শরীয়তপুর প্রথম এসেছি। এরকম খারাপ রাস্তা কোন জেলায় দেখি নাই। বিকল্প সড়ক না রেখে ব্রিজ ভেংগেছে। কিভাবে নড়িয়া যাবো। সেই পথটাও দেখিয়ে দেয়ার লোক নেই। খুবই দুঃখ জনক। কাজটির ঠিকাদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ভূইয়া রেদোয়ানুল রহমান বলেন, ব্রিজটি ১৬ কোটির টাকা ব্যায়ে ব্রিজটি নির্মাণ হচ্ছে। আমি বিষয়টি দেখছি। এখনি লোক পাঠিয়ে নাটবল্টু টাইট দেয়ার ব্যবস্থা করছি। বিষয়টি জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।