সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে : শরীয়তপুরে ইশা ছাত্র আন্দোলন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে : শরীয়তপুরে ইশা ছাত্র আন্দোলন

করোনার অজুহাতে দুই শিক্ষাবর্ষে দীর্ঘ ৪৪৭ দিন যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দরুন প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। যেখানে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম চলমান। গণ-পরিবহন, অফিস-আদালত, কারখানা-গার্মেন্টসসহ কি খোলা নেই বাংলাদেশে! কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেই শুধু করোনা বাড়বে? এটি মিথ্যা অজুহাত ও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি। সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯তম সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে উপমহাদেশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘৃণিত নজির স্থাপন করেছে।

আজ ৭ জুন’২১ সোমবার সকাল ১০টায় শরীয়তপুর জেলার চৌরঙ্গী চত্ত্বরে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর উদ্যোগে “যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত পূর্বক অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে” আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন শরীয়তপুর জেলার শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ আশিক মাদবর।

তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু শিক্ষা যদি হয় অটোপাশ তবে জাতি হবে মেধা শূন্য। শিক্ষার্থীরা আজ বই-খাতা রেখে জীবিকার তাড়নায় কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। অনেকেই শিক্ষার আশা ছেড়ে দিচ্ছে। অপর দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। মাদক, ইয়াবা ও শিশু ধ্বংসাত্মক ডিভাইস তাদের নিত্য সঙ্গী হচ্ছে। এভাবে জাতিকে বোকা বানিয়ে একটি মেধাহীন প্রজন্ম তৈরি করে দেশকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই, তিনি শিক্ষা নিয়ে সরকারকে তামাশা বন্ধের জোর দাবী জানান।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি তোফায়েল আহমেদ কাসেমী বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে। শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলেই সরকারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য বারংবার তাগিদ দিয়ে আসলেও কারো কথায় কর্ণপাত না করে সরকার একগুঁয়ে আচরণ করে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দিলে সরকার আবারও এসএসসি ও এইচএসসিতে অটোপাশ দিতে বাধ্য হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট বাড়বে। তাই অটোপাশ নয়, সেশনজট নয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনযোগ ফিরাতে অতিসত্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, শরীয়তপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা হাফিজুর রহমান শরিয়তপুরী, ইশা ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির শুরাহ্ সদস্য হুসাইন মুহাম্মাদ ইলিয়াস, ইসলামী যুব আন্দোলন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ হযরত আলী ও ইসলামী যুব আন্দোলন শরীয়তপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ তারেক জামিল সহ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর জেলা ও থানা নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।
#