বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং

বিলকিসের বাদশাকে ১৫ লাখ টাকায় বেচতে চান

বিলকিসের বাদশাকে ১৫ লাখ টাকায় বেচতে চান

গায়ের রঙ কালো, চলন-বলেনও আভিজাত্যের ছোঁয়া। এ কারণে নাম রাখা হয়েছে কালো বাদশা । কালা বাদশাকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মীরাকান্দি গ্রামের তরুণী বিলকিস আক্তার (১৭) আড়াই বছর ধরে লালন-পালন করে আসছেন। এবারের ঈদে ফিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়টিকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান বিলকিস আক্তার।

শরীয়তপুরে আসন্ন ঈদুল আজহার হাটে এটি হবে অন্যতম চমক। বিলকিসের দাবি ষাঁড়টির ওজন ২৩ মণ। তিনি এর দাম হাঁকাচ্ছেন ১৫ লাখ টাকা। তবে বাড়ি থেকে কেউ কিনতে চাইলে দামাদামি করা যাবে বলে জানান তিনি। গরুর হাটসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমেও প্রচার হয়ে আসছে কালো বাদশার কথা।

কালো বাদশাকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অনেক মানুষ। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার মীরাকান্দি গ্রামের বিলকিস আক্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষের জটলা। কেউ সেলফি তুলছেন। আবার কেউ শুধু ষাঁড়টির ছবি তুলছেন।

তাদেরই একজন আবরান শিকদার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি অনেক বড় একটি ষাঁড় আছে মীরাকান্দি গ্রামে। তাই দেখতে আসলাম।

মীরাকান্দি গ্রামের মো. শাহীন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন,, একজন নারী হয়ে ষাঁড়টি লালন-পালন করছেন বিলকিস। তাকে ধন্যবাদ জানানই। আশা করি বাজারে ষাঁড়টির ভালো দাম পাবেন তিনি।

বিলকিস আক্তারের বড় ভাই মো. জাকির হোসেন ও মো. ফেরদাউস আহমেদ বলেন, ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট। ওজন ৯২০ কেজি বা ২৩ মণ। বিলকিস প্রতিদিন সাধারণ গোখাদ্যের পাশাপাশি ষাঁড়টিকে গোসল করান শ্যাম্পু দিয়ে। তার জন্য ২টি ফ্যান সবসময় চালু রাখা হয়েছে।

তারা জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে তাদের বাবা হাজী এসকান্দার ব্যাপারী কুষ্টিয়া জেলা থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ষাঁড়টি কিনে আনেন। পরে তার বোন বিলকিস আক্তার ষাঁড়টি লালন-পালন করেন। প্রয়োজনমতো খাবার ও পরিচর্যায় এর আকৃতি বাড়তে থাকে।

দিন দিন গরুটির ওজন বেড়ে ৯২০ কেজিতে এসে দাঁড়ায়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে গরুটির ওজন নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বছর গরুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

বিলকিস আক্তার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আদর করে ষাঁড়টির নাম রেখেছি কালো বাদশা। বাদশা আমার খুব আদরের। যত্ন করে লালন-পালন করেছি। এটি আমার পরিবারের সদস্যের মতো। তাকে কালো বাদশা বলে ডাকলে আমার দিকে তাকায়। আবার কান নাড়ায়। ষাঁড়টি অনেক শান্ত প্রকৃতির। ষাঁড়টির খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা, ডালের গুঁড়া ও ছোলা। সব মিলিয়ে দিনে ২০-২২ কেজি খাবার খায় গরুটি। শুরুতে খাবার কম খেলেও দিনে দিনে তার খাবারের চাহিদার পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিলকিস আক্তার তার ষাঁড়টি জেলার সবচেয়ে বড় ওজনের ষাঁড় দাবি করে দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, ৮ জুলাই পর্যন্ত কালো বাদশার ওজন ২৩ মণ। দাম চাচ্ছি ১৫ লাখ টাকা। তবে বাড়ি থেকে কেউ কিনতে চাইলে দর-দাম করে বিক্রি করবো।’

স্থানীয় পশু চিকিৎসক এফ এম রুহুল আমিন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন,, ষাঁড়টি খুব শান্ত স্বভাবের। প্রথম থেকেই আমি ষাঁড়টির সব ধরনের চিকিৎসা করে আসছি। আসন্ন ঈদুল আজহায় বিক্রি করতে না পারলে মালিক খুব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুণ কুমার রায় দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কালো বাদশা নামে ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন মালিক। কোনো সৌখিন ক্রেতা ষাঁড়টি উপযুক্ত দাম দিয়ে কিনলে মালিক উৎসাহিত হবেন। ষাঁড়টির লালন-পালনকারী বিলকিস আক্তার একজন ভালো উদ্যোক্তা।

কালো বাদশাকে কেনার জন্য ০১৮২৪২২৯০৫০, ০১৮১৩৭৩২৩৭২ নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।