শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী
শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

তীব্র স্রোতের কারণে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

তীব্র স্রোতের কারণে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে নদীতে তীব্র স্রোত বেড়েছে। স্রোতের কারণে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে দিনে রাতে ১৫ ঘন্টা তিনটি ফেরি চলাচল করতে পারছে না। অন্য ফেরিগুলোও পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এ কারণে ঘাটে গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিটিসি) সূত্র জানায়, চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে যানবাহন পারাপারের জন্য ৭টি ফেরি রয়েছে। মেঘনা নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরি কিশোরী, কামিনি ও কস্তুরি চলাচল করতে পারছে না। দিনে রাতে জোয়ার-ভাটার সময় ১২ হতে ১৫ ঘন্টা ৩টি ফেরি স্রোতের বিপরীতে চলতে পারছেনা।

আর শরীয়তপুরের নরসিংহপুর থেকে ফেরিগুলো ছেরে চাঁদপুরের বহরিয়ারটেক হয়ে উজানে গিয়ে মেঘনা পাড়ি দিতে হচ্ছে। এ কারণে ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলতে হয়। এখন ওই নৌপথ পাড়ি দিতে দুই হতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগছে।

প্রতিটি ফেরি ২৪ ঘন্টায় ৬টি হতে ৭টি ট্রিপ দিতে পারত। নরসিংহপুর ফেরিঘাট হতে চাঁদপুরের হরিনা ফেরিঘাটে পৌঁছতে আগে এক ঘন্টা সময় লাগত। প্রতি দিন ৪৫০ হতে ৫০০ যানবাহন পারাপার করা যেত।

দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার, স্থলবন্ধর বেনাপোল, ভোমরা, নৌবন্দর মোংলা ও পায়রাবন্দরের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন শরীয়তপুর- চাঁদপুর সড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পণ্যসামগ্রী আনা-নেয়া করতে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথ ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরিতে ধাক্কা দিলে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আর পদ্মায় স্রোত বৃদ্ধি পেলে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ কারণে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। আর ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ও পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগার কারণে নরসিংহপুর ঘাটে গাড়িরজট সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সড়ক ও ফেরিঘাটের টার্মিনালে অন্তত তিন শতাধিক গাড়ি আটকা পরেছে।

যশোর হতে চট্রগ্রামে যাতায়াতকারী ট্রাক চালক আব্দুর রহিম দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি ছাড়ছে না। দৌলতদিয়ায় গাড়ির জট। আর নরসিংহপুর ঘাটে স্রোতে ফেরি চলতে পারছে না। কখন ফেরিতে উঠতে পারব তা বুঝতে পারছি না। আল্লাহই জানেন আমাদের এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়।

ফেরি কিশোরীর চালক গোলাম সারওয়ার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, নদীতে প্রচন্ড স্রোত আর কচুরিপানা। যার কারণে ফেরি চালাতে পারছিনা। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘাটে বসে থাকতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে স্রোত কিছুটা কমে আসে তখন ফেরি চালাতে পারি।

নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ইজারাদার ও চরসেন্সাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া ব্যাপারী দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য পদ্মা ও মেঘনা নদীর ফেরিঘাটগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এ নৌপথে অনেক পুরাতন দুর্বল ফেরি চলাচল করে। যার কারণে বর্ষা আসলেই ফেরি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিটিসি) নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। প্রতি ৬ ঘন্টা পরপর জোয়ার-ভাটা হয়। তখনই নদীতে স্রোত বেশি থাকে আর ফেরি চলাচল করতে পারে না। এ কারণে এ নৌপথের ৩টি ফেরি দিনে অন্তত ১২-১৫ ঘন্টা বন্ধ রাখতে হয়। স্রোত কমে গেলে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
#