শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী
শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করে নার্স বিপাকে

শরীয়তপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করে নার্স বিপাকে

মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নার্স বিপাকে পড়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নার্সকে কারণ দর্শিয়েছেন। রোগীর চাপ থাকায় ভুলবসত মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাই পুশ করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন দায়িত্বে অবহেলাকারী নার্স।

রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ৫ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বালুচড়া গ্রামের মিজানুর রহমান পাহাড়ের দেড় বছর বয়সী মেয়ে আফিয়া সিদ্দিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম অসুস্থ আফিয়ার শরীরে পানিশূণ্যতা ও ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসাপত্র লিখে দেন। তখন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্স মাহমুদা আক্তার চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী সরকারী স্যালাইন আফিয়ার গায়ে পুশ করে। স্যালাইন চলাকালীন সময়ে রোগীর সাথে থাকা লোকজন স্যালাইনের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে।

রোগীর পিতা মিজানুর রহমান দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, ডেক্সট্রোজ নামের ৫০০ মিলিলিটারের একটি স্যালাইন নার্স মাহামুদা আমার মেয়ের গায়ে পুশ করে। স্যালাইন চলাকালে বোতলের গায়ে লেখা দেখি ২০১৮ সালের জুলাই মাসে স্যালাইনটি তৈরী হয়েছে। স্যালাইনের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে নার্স মাহামুদা আমার অসুস্থ মেয়ের গায়ে সেই স্যালাইন পুশ করেছে। বিষয়টি দেখার পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে অবগত করেছি।

নার্স মাহামুদা দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, এক সাথে চারজন রোগী আসে। একই বক্স থেকে একে একে প্রত্যেককে স্যালাইন পুশ করি। একটা বাদে সকল স্যালাইনের মেয়াদ ঠিক ছিল।

স্টোর কিপার আবুল হোসেন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, গত তিন মাসের মধ্যে কোন স্যালাইন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হয় নাই। তাছাড়া একই বক্সে মেয়াদসহ ও মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন থাকতে পারে না। হয়তো পূর্বের কোন স্যালাইন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। নার্সের ভুলে সেই স্যালাইন রোগীকে পুশ করেছে।

নার্সিং সুপারভাইজর ফাহিমা বেগম জানায়, নতুন কাটুন থেকে চারটি স্যালাইন বের করা হয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন কিভাবে আসল তা বুঝতে পারছি না। হয়তো স্যালাইন ঠিক আছে লেভেলের গায়ে মেয়াদের তারিখটা ঠিক না। মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন হলে রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ত।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমেদ খান দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, একজন চিকিৎসক ও নার্সের ভুলের জন্য একজন রোগীর জীবন চলে যেতে হবে। এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহার করে নার্স দায়িত্বে অবহেলা করেছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য নার্স মাহমুদা কে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছে।