রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরে ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু, ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ

শরীয়তপুরে ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু, ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ

শরীয়তপুরে রাত ১২ বাজলেই মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু হবে। অভিযান সফল করতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন ও ব্যানার শাটানোসহ সভা সমাবেশের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে চলছে জেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযান সফল করতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকবে পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, র‌্যাবসহ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। আইন অমান্য করলেই গুনতে হবে জরিমানা, বরণ করতে হবে জেল।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৬০ কিলোমিটার এলাকা এই অভিযানের আওতায় থাকবে। ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসককে টাস্কফোর্সের সভাপতি ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ থাকছেন টাস্কফোর্সের সদস্য। আইন অমান্যকারীদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১ বছরের সাজা প্রদান করতে পারবে। একই অপরাধ বারবার সংগঠিত করার অপরাধে জেল ও জরিমানা দ্বিগুন হতে পারে।

জেলা মৎস্য অফিসার প্রনব কুমার কর্মকার বলেন, ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ইলিশ ধরা, পরিবহন ও দখলে রেখে বিক্রি করার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই অভিযান বাস্তবায়ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতি উপজেলায় জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা সেমিনার করা হয়েছে। মাইকিং করার পাশাপশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন শাটিয়ে ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেলা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জেলার ১৯ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দিয়ে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর আমরা ২৫৩টি অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার ৬০৩ জনকে জেল ও ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা জরিমানা করতে সক্ষম হই। ৮০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল, ৫৮১টি মাছ ধরার ট্রলার ও ১৭টি স্পীডবোট জব্দ করে ধ্বংস করেছি। এবারের অভিযান সফল করতে প্রস্তুত রয়েছি।
টাস্কফোর্সের সদস্য পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান বলেন, মা ইলিশ ধরার সাথে জড়িতদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অর্থলগ্নি করে জেলেদের অবৈধ কাজে সহায়তা করবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
টাস্কফোর্সের সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।