রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরের চর স্বর্নঘোষ জমি দখল ও গাছকাটার অভিযোগ

শরীয়তপুরের চর স্বর্নঘোষ জমি দখল ও গাছকাটার অভিযোগ

সদর উপজেলার ৬৮ চর স্বর্নঘোষ মৌজার (২০ দশমিক ৫৬) শতাংশ জমি দখল, কলা বাগান ও পেয়ারা বাগানে ৪ শতাধিক গাছ কেটে ফেলা অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী গিয়াস উদ্দিন বয়াতী বিরুদ্ধে।

জমি দখল, গাছপালা কেটে নেয়া ও খুন-গুমের হুমকির অভিযোগে পালং মডেল থানা অভিযোগ দায়ের করেন জমির মালিক সবুজ খান ও আলতাফ বেপারী এবং কৃষক আওলাদ ফকির।

স্থানীয় প্রভাবশালী গিয়াস উদ্দিন বয়াতী সহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও গাছকাটা সরঞ্জামাদি নিয়ে নির্দেশিত তফসিলভূক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সড়কের সাথে থাকা টিনের বেরিকেট তান্ডব চালিয়ে ফলগাছ গুলো এলোমেলো ভাবে কোপাতে থাকেন, এর পর প্রভাবশালীরা একটি টিনের ঘরর তৈরি করে। স্থানীয়দের উপস্থীতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

জমিতে পেঁপে ও কলা গাছ লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবানে স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষক আওলাদ । সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ভূমিদস্যুরা নষ্ট করে দিলে কষ্টের শেষ থাকে না। জমিতে বসে কান্নারত অবস্থায় হাজারো বিলাপ করলেও আর ফিরে আসে না সেই স্বপ্ন। এমনই স্বপ্ন নিয়ে আওলাদ ২০. ৫৬ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে জমিতে দেড় বছর ধরে পেয়ারা, কলা চাষ করে আসছিলেন কৃষক আওলাদ ফকির।

এবিষয়ে জমির মালিক সবুজ খান ও আলতাফ বেপারী বলেন, আমরা নদীর ভাঙ্গনের শিকার, ইতিমধ্যে আমাদের শেষ সম্বল একটু জমি ছিলো তা নড়িয়ার নদীর ভাংগনে বিলিন হয়ে গেছে, অনেক কষ্টে শরীয়তপুর সদরে চর স্বর্নঘোষ এলাকায় আমরা দুজনে এই জমিটি ক্রয় করি। বিগত ৪ বছর শান্তি পূর্ণ ভাবে জমিটিতে স্থানীয় মুদি দোকানদার আওলাদ-কে ভাড়া দিয়েছি। আওলাদ ঐখানে একাধিক কলা গাছ ও পেয়ারা গাছ সহ-সবজি চাষ করেছিলো। কিন্তু হটাৎ ভূমি দস্যুরা কিছু বোঝার আগেই এই তান্ডব চালায়, আমরা এই ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

কৃষক আওলাদ বলেন, তিন বছর ধরে কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ২ টি বড়ই বাগানে তৈরি করি এবং বড়ই বিক্রি করে প্রতি বছর বেশ লাভবান হয়েছি তারই সুবাদে এবার কলা ও পেয়ারা চাষ করি। কিন্তুু জমি জমা নিয়ে বিরোধ থাকলে তারা আইনের সহযোগিতা বা স্থানীয় মিমাংসা মাধ্যমে বসে সমাধান করুন, আমার কলা ও পেয়ারা গাছ কি ক্ষতি করছে। এখন আমার কি উপায় হবে প্রায় দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার ক্ষতি হয়ে গেলো। তাই আমি আইনের সহযোগিতা নিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনের নিকট তদন্ত সাপেক্ষে ওই ভূমি দস্যু গিয়াস উদ্দিন বয়াতী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

পালং মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, ওই জমির মালিক ও কৃষক সকালে থানায় পৃথক পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করছেন। অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান, পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়েছে, অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।