বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং
শরীয়তপুরে আংগারিয়া

নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যু

নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যু

সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগের এক কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার ভোর পাঁচটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তিনি মারা যান।

মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম আবদুর রাজ্জাক মোল্লা (৬০)। তিনি আংগারিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরযাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

রাজ্জাক মোল্লা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসমা আক্তারের সমর্থক ছিলেন। গত ৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের হামলায় আহত হন তিনি।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আংগারিয়া ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আসমা আক্তার। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন জয়ী হন।

জানা গেছে, নির্বাচনের আগে ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় আংগারিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাতাং পাকার মাথা এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয়ে আসমা আক্তারের ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক বসে ছিলেন। ওই সময় আনোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা ক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনের ভাই সেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা আসমা আক্তারের সমর্থক আবদুর রাজ্জাক মোল্লা (৬০), তাঁর ছেলে বাবু মোল্লা (৩০), আক্তার মোড়ল (৪৫), সেলিম ওঝা (৪০) ও মনির হোসেনকে (৩৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। এ সময় নৌকার একটি নির্বাচনী কার্যালয়, তিনটি মোটরসাইকেল, তিনটি দোকান ভাঙচুর ও তাজুল ইসলাম মোল্লার দুটি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। আহত ব্যক্তিদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আবদুর রাজ্জাক মোল্লাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রাজ্জাক মোল্লা ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যবসা করতেন। নির্বাচন উপলক্ষে ছেলে বাবু মোল্লাকে নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন।
ওই হামলার ঘটনায় ৮ নভেম্বর ৬৮ ব্যক্তির নামে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেন আসমা আক্তারের সমর্থক মনির হোসেন।

নিহত আবদুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে বাবু মোল্লা বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তাঁর সমর্থকেরা আমার বাবাকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। প্রথমে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতাল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। যাঁরা আমার বাবাকে হত্যা করেছেন, আমি তাঁদের বিচার চাই।’

জানতে চাইলে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘রাজ্জাক মোল্লা যে ঘটনায় আহত হয়েছিলেন, সে ঘটনায় আমরা জড়িত নই। তাঁর মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসমা আক্তার বলেন, ‘রাজ্জাক মোল্লাকে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তাঁর লোকেরা কুপিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আমরা হত্যা মামলা করব।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। আমরা আট আসামিকে গ্রেপ্তারও করি। তিনজন এখনো কারাগারে। বাকিরা জামিনে আছেন। হামলার ঘটনায় আহত রাজ্জাক মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এখন ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।’

#