সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং

ঈদের নামাজ শেষে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, ২০ জন আহত, পুলিশ ৫জনকে আটক করেছে

ঈদের নামাজ শেষে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, ২০ জন আহত, পুলিশ ৫জনকে আটক করেছে

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মসজিদে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কুদ্দুস বেপারী (৭৫)নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয় এবং ২০ জন আহত হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মজুমদার কান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

৩ মে মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকাল সাড়ে নয়টার সময় ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে সৈয়দ সরদার এবং ইমাম হোসেন এর সাথে মারামারি হয়। পরবর্তীতে এ মারামারি চিতলিয়া ইউনিয়নের সালাম হাওলাদার এবং হারুন হাওলাদার এ দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক আকারে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষের কবলে পড়ে কুদ্দুস বেপারী (৭৫)নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়। এ মারামারিতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

চিতলিয়া ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মারামারি বিষয়টি পালং থানাকে অবগত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পালং থানার পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদেরকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার বৃদ্ধ কুদ্দুস বেপারী (৭৫) কে মৃত ঘোষণা করে। আহতদের মধ্যে সৈয়দ সরদার(৪০) এবং জয়নাল বেপারী(৭৫) আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। বাকি আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে হারুন হাওলাদার আমাদের সাথে পায়ে পাড়া দিয়ে মারামারি চেষ্টা চালাচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমার একটাই দাবি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

হারুন হাওলাদার ওরফে মাস্টার বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সালাম হাওলাদারের লোকজন আমাদের সাথে মারামারি করবে এমন একটি ঘটনা শুনে আমি পালং থানার ওসিকে জানিয়েছিলাম। ওই মারামারিতে আমারও ৬ জন আহত হয়েছে। তবে আমি শুনেছি ওই বৃদ্ধ কুদ্দুস বেপারী স্ট্রোক করে মারা গেছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস আছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

পালং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, মারামারি বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে আমিসহ পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হৈ। আহতদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। শুনেছি একজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই লাশের ময়না তদন্ত হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।