মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং
শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে

নারীর ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা, ভিডিও ভাইরাল

নারীর ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা, ভিডিও ভাইরাল

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর সিংগারিয়া গ্রামে ফাহিমা বেগম (৩১) নামে এক নারীর উপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ডা. মনিরুল ইসলাম মনির সুষ্ঠু বিচারের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মামলা করতে বাঁধা ও কালক্ষেপণ করে করেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে ওই নারী নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানা পুলিশ অদৃশ্য কারণে মামলা না নেয়ায় আদালতে গিয়ে মামলা করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চর সিংগারিয়া গ্রামে ফাহিমা বেগমের স্বামী জাকির হোসেন সরদার দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে রয়েছেন। ফাহিমা ছোট দুটি মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি চর সিংগারিয়া গ্রামে বসবাস করছেন। স্বামী জাকির হোসেন বিদেশ থাকার সুযোগে প্রতিবেশী মৃত মান্নান সরদারের ছেলে মনির হোসেন সরদার (৪০) ফাহিমা বেগমের মান ইজ্জত নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। ফাহিমা বেগম মনিরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মনির তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করে আসছে। ফাহিমা এ ঘটনা তার স্বামী জাকির হোসেন ও আশপাশের লোকজনকে জানান। তারা এ বিষয়ে মনিরকে সাবধান করলে মনির আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ফাহিমাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়। ফাহিমা বিষয়টি মনিরের ভাই ব্রাদার ও আত্মীয় স্বজকে জানালে তারাও উল্টো ফাহিমাকে গালমন্দ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে ফাহিমা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মনির তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ফাহিমা ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে মনিরকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় পরের দিন ১৪ মে বিকাল ৪টার দিকে মনির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম, ছেলে রাকিব ও সাকিব সহ আরও কয়েকজন মিলে ফাহিমার ওপর হামলা চালায়। তারা ফাহিমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ফাহিমার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন নারী মিলে ফাহিমাকে চুলের মুডি ধরে টেনে হিঁচড়ে এলোপাতাড়ি লাথি ও কিল ঘুষি মারছে। আর মনির একটি মোটা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাচ্ছে। ফাহিমা বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাক চিৎকার দিচ্ছে। ফাহিমা হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য দৌড়ে ঘরের মধে লুকাতে চাইলে মনির ঘরের মধ্যে গিয়েও হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ফাহিমা। ফাহিমা বেগম বলেন, আমার সাথে যারা অন্যায় অবিচার করেছে আমি তাদের বিচার চাই।

অভিযুক্ত মনির হোসেন সরদার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, ফাহিমা বেগম আমার ভাইয়ের স্ত্রী। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাড়ির মহিলারা মহিলারা ঝগড়াঝাঁটি করেছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ডা. মনিরুল ইসলাম মনির দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমি বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোন পক্ষই আমার কথা শোনেননি।

এ বিষয়ে জানার জন্য পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেনের ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 


error: Content is protected !!