মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং
শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর

আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে কর্মীর হাত কর্তন

আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে কর্মীর হাত কর্তন

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হামিদ সাকিদার(৫৮)-এর হুকুমে আওয়ামী লীগ কর্মী মোহাম্মদ হোসেন হাওলাদার (৪২) এর উপর হামলা কওে ডান হাতের কব্জি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত শুক্রবার ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টায় বিনোদপুর সাকিনস্থ বাছারকান্দি মনাস মুন্সীর বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে পাকা রাস্তার উপর পথ রোধ করে অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত ঐ আওয়ামী লীগ কর্মী বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ হামলার ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে গত ৪ জুন জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক পদ থেকে আব্দুল হামিদ সাকিদারকে অব্যহতি পূর্বক কেন তাকে বহিস্কার করা হবে না, এই মর্মে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় শনিবার ৪ জুন রাতে আহত হোসেনের স্ত্রী লাইলী বেগম বাদী হয়ে বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদার সহ ১০জনকে আসামী করে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় ও মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে আওয়ামীলীগ কর্মী মোহাম্মদ হোসেন হাওলাদার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগী দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাছারকান্দি পৌছানোর সাথে সাথেই বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের নির্দেশে তার বাহিনী হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা হোসেনের ডান হাতের কব্জী কেটে ফেলে কুপিয়ে জখম করে তার সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়।

তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যাবৎ বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কুদ্দুস মুন্সী ও সাধারন সম্পাদক সরোয়ার খানের সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দ চলে আসছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সমর্থকরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের অনেকেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উক্ত ঘটনায় একটি মামলাও রয়েছে।
আহত মোহাম্মদ হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী বলেন, বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের হুকুমে তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ডান হাতের কব্জী কেটে নিয়েছে। হামিদ সাকিদার সহ সকল আসামীদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলভঙ্গের কারনে তাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হামিদ সাকিদারকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
অপরদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের বক্তব্যের জন্য বারবার মোবাইল করে ও ম্যাসেজ পাঠিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, স্বামীর উপর হামলার ঘটনায় স্ত্রী লাইলী বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যহত রয়েছে।


error: Content is protected !!