মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, পরিবহন খাতে শরীয়তপুরে প্রায় ৩’শ কোটি টাকা পরিবহন মালিকরা বিনিয়োগ করেছেন

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, পরিবহন খাতে শরীয়তপুরে প্রায় ৩’শ কোটি টাকা পরিবহন মালিকরা বিনিয়োগ করেছেন

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে আগামী ২৫ জুন। সেতুকে ঘিরে শরীয়তপুর সহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলেরপরিবহন খাত সহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে শরীয়তপুর এই প্রথম ঢাকার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পাচ্ছে। উদ্বোধনের দিন থেকেই নতুন বাস চলাচলের জন্য প্রায় ৩’শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন পরিবহন মালিকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুর পৌর বাস টার্মিনালের দুই পাশে দুটি কারখানায় চলছে নতুন বাস নির্মানের কর্মযজ্ঞ। তাঁরা ভলভো, অশোক লিল্যান্ড, টাটা কোম্পানির বাসের চেসিস কিনে বডি তৈরির কাজ করছেন। শরীয়তপুর ছাড়াও ঢাকা ও সাভারে বাসের বডি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে শরীয়তপুরে তৈরীকৃত বাসগুলো কতটা মানসম্মত হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান রয়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা। তারা জানান শরীয়তপুরের আঞ্চলিক রুটে যাতায়াতকৃত বাসগুলোর মান একদম নিম্ন মানের। এর মধ্যে অনেকগুলো একদম চলাচলের অনুপোযোগী। তাই ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে মানসম্মত বাস চালু করার দাবি তাদের।

বাস মালিক সমিতির সুত্রে জানা যায়, কয়েকটি প্রাইভেট কোম্পানী শরীয়তপুর থেকে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ সরাসরি বাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস, শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলস, শরীয়তপুর পরিবহন ও গ্লোরি পরিবহন। প্রতিটি কোম্পানি নতুন বাস আনার পরিকল্পনা করছে। তাদের মধ্যে পদ্মা ট্রাভেলস ও শরীয়তপুর পরিবহনের কয়েকটি বাস এরই মধ্যে ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত চলাচল করছে। কোম্পানিগুলো প্রাথমিকভাবে ৩০০টি বাস প্রস্তুত করছে। যার একেকটিতে খরচ পড়ছে ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা। এতে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন পরিবহন মালিকরা।

বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহমেদ তালুকদার জানান, ‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন থেকেই আমরা ঢাকার সঙ্গে সরাসরি বাস চালু হওয়ার আশা করছি। কয়েকটি পরিবহন ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে যাঁদের রুট পারমিট আছে, শুধুমাত্র তাঁরাই এই রুটে বাস নামাতে পারবেন।’

শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান ও নড়িয়া পৌরসভার মেয়র এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত কয়েকটি বাস পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করেছি। পদ্মা সেতুতে যান চলাচলের শুরুর দিন থেকেইশরীয়তপুর থেকে ঢাকাতে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করার আশা করছি।’

শরীয়তপুর পরিবহনের পরিচালক এরশাদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরের শুরু থেকেই আমরা মাওয়া-সায়দাবাদ রুটে পরীক্ষামূলক ভাবে বাস চালু করেছি। পদ্মা সেতু চালু হলে আমরা ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে সরাসরি বাস চালু করবো। আমাদের এসি ও নন-এসি দুধরনের বাস চলবে। আমরা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবো।’

শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের পরিচালক খালেক পালোয়ান বলেন, ‘টানা দুই বছর করোনার ধাক্কা সামলাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা শরীয়তপুরের পরিবহন মালিকদের। তবে সেতু চালু হলে ব্যবসা বানিজ্য বাড়বে এই আশায় রয়েছি। তাই অনেক কষ্ট করে নতুন করে বিনিয়োগ করেছি। আশা করছি পদ্মা সেতুর সুফল পাবো আমরা’

শরীয়তপুর এলাকার আব্বাস কোতোয়াল জানান, ‘এতদিন শরীয়তপুর থেকে ঢাকাতে সরাসরি কোন বাস ছিলনা। নৌপথে ঢাকা যাতায়াতে দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় শরীয়তপুর থেকে ঢাকাতে সরাসরি বাস চলাচল করবে। এতে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’

শরীয়তপুর এলাকার শিউলী বেগম জানান, শরীয়তপুর থেকে ঢাকাতে যাতায়াতে অনেক যন্ত্রনা করতে হয়। পদ্মা সেতু চালুর কারনে শরীয়তপুর থেকে ঢাকাতে সরাসরি বাস চালু হবে। সকলের জন্য সুবিধা হবে।’

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর শহর থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত চার লেনের সংযোগ সড়কটি নির্মানের কাজ চলছে। ১ হাজার ৬শ’ ৮২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

 


error: Content is protected !!