মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

দুদক পরিচয়ে শরীয়তপুরে চাদাবাজি ! চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা

দুদক পরিচয়ে শরীয়তপুরে চাদাবাজি ! চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী জীতু মিয়া বেপারীর কাছে দুদক পরিচয়ে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদে মামলা হয়েছে ।

২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মোঃ জিতু মিয়া বেপারী বাদী হয়ে ১নং এ.এম. ইদ্রিস খান (৩৫)পিতা সুজাত খান, গ্রাম মল্লিক বাড়ী, থানা মতলব, জেলা চাঁদপুর ২নং এম.এ. ওয়াদুদ মিয়া (৪৮) পিতা আব্দুর রহমান, গ্রাম বালুচড়া, থানা পালং, জেলা শরীয়তপুর সহ মোট ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরন ও জিতু মিয়া বেপারীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, ঘটনার দিন সখিপুর থানাধীন বেড়াচাক্কি ছাই ফ্যাক্টরীর সামনে ট্রলার ঘাট নামক স্থানে মামলার সাক্ষী জিল্লুর রহমান এর নিকট এসে আমি কোথায় আছি তা জিজ্ঞেস করে। তখন জিল্লুর রহমান বলে আমি চাঁদপুর আছি। এ সময় এ.এম. ইদ্রিস খান ও এম.এ. ওয়াদুদ মিয়া জিল্লুর রহমানের নিকট দুদকের পরিচয় দেয় এবং আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আমাকে ফোন দিয়ে আমার নিকট দুদকের পরিচয় দিয়ে বলে ‘আপনি জিতু বেপারী ভূমি দখল ও দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন । আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি তখন বলি আমরা পৈত্রিক সূত্রেই অনেক জায়গা জমির মালিক। তাছাড়া আমি ব্যবসা বানিজ্য করে সৎ উপায়ে কিছু সম্পদ অর্জন করেছি, তবে তা শত শত কোটি নয়, আপনারা তদন্ত করে দেখতে পারেন। তখন তারা বলেন অতশত বুঝিনা আমরা দুইজন দুদক থেকে এসেছি আপনার দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আপনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ কথা বলে ফোন কেটে দেয়।

অতঃপর ঘটনাস্থল থেকে যাওয়ার সময় জিল্লুর রহমানকে বলেন জিতু বেপারীকে বলবেন,সে যেন আমাদের দুইজনের জন্য ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা প্রস্তুত রাখে। জিতু বেপারী বাড়ী আসলে সে যেন আমাকে ফোন দেয়। আমি বাড়ী এসে এ.এম. ইদ্রিস খানকে ফোন দেই। তখন এ.এম. ইদ্রিস খান দুদকের লোক পরিচয় দিয়ে বলেন আপনার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আছে। আমাকে দুদকের অফিস ঢাকাস্থ কাকরাইল যাওয়ার জন্য বলে। আমি সরল বিশ্বাসে গত ১৭/০৯/২০২২ইং তারিখ ঢাকাস্থ দুদুক কার্যালয়ে যাই এবংএ.এম. ইদ্রিস খানকে ফোন দেই। তখন সে বলে আপনি মগবাজার চৌরাস্তায় আসেন। মগবাজার গিয়ে ফোন দিলে তিনি বলেন মগবাজার চৌরাস্তার সন্নিকটে ভাতভৰ্ত্তা হোটেলে আসুন। অতঃপর আমি সেখানে গিয়ে তার সাক্ষাত পাই। এ সময় এ.এম. ইদ্রিস খান দুদুকের স্টাফ পরিচয় দিয়ে আমাকে বলেন আপনার বিরুদ্ধে দুদকে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তবে আমরা আপনাকে বাচাতে পারি, যদি আমাদের ২০ লক্ষ টাকা দিতে পারেন। আমার তখন তাকে ভূয়া দুদকের লোক বলে সন্দেহ হয়। আমি তখন তার পরিচয় পত্র দেখতে চাই। তখন তিনি হেসে দিয়ে বলেন আমি আসলে দুদকের লোক নই। আমি এনটিভি’র ক্রাইম রিপোর্টার ! তখন আমি এনটিভি’র পরিচয়পত্র চাইলে তিনি বলেন, পরিচয়পত্র সাথে নেই। এ সময় সে আমাকে ভয় দেখিয়ে বলে আমরা ধারাবাহিক ভাবে আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে সংবাদ লিখে যাবো। আর যদি আমাদের ২০ লক্ষ টাকা দিতে পারেন তাহলে লিখবো না। তখন আমি বলি আমি অন্যায় ভাবে কোন টাকা পয়সা অর্জন করিনি, কাজেই আপনারা অনুসন্ধান করে আমার বিরুদ্ধে লিখুন এই বলে আমি চলে আসছি। আমি উক্ত আসামিদের আইনানুগভাবে যথার্থ শাস্তির দাবী করছি।

পরিষেশে জিতু বেপারী বলেন, আমি দীর্ঘ পচিশ বছর চরসেনসাস ইউনিয়নে সুনামের সাথে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি ৷ আমরা পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রেই বিত্তবান। তাছাড়া আমি সৎপথে ব্যবসা বানিজ্য করে অর্থ উপার্জন করে সম্পদের মালিক হয়েছি। আমি অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করিনি। পাচঁ দিন আগে আমার বিরুদ্ধে দুইটি অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয়েছে,আমি এর তিব্র নিন্দা এবং পতিবাদ জানাই !


error: Content is protected !!