বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং

একমাত্র চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া, দুর্ভোগে শরীয়তপুর ২৫টি পরিবার

একমাত্র চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া, দুর্ভোগে শরীয়তপুর ২৫টি পরিবার

একমাত্র চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া দেওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বড় সন্দীপ এলাকার মিরাকান্দি গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার। স্থানীয় মৃত আজিজ খানের ছেলে রাসেল খান(৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিকট এ অভিযোগ তুলেষধরেছেন ভূক্তভোগী পরিবারগুলো। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, জেলা প্রশাসক, শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পালং মডেল থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বড় সন্দীপ এলাকার মিরাকান্দি গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছে। যার কারনে এ রাস্তার মুখে খালের উপরে একটি পাকা ব্রিজ সরকারিভাবে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে এবং রাস্তায় সরকারি বরাদ্দের মাটি ফেলা হয়েছে। কিন্তু রাসেল খান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি কিছুদিন ধরে তাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তায় টিনের বেড়া দিয়ে আটকিয়ে ও গাছ লাগিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ২৫টি পরিবারকে অসুবিধায় ফেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঐ গ্রামের ভূক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন মীর, আ: মান্নান মুন্সী, সীতারা বেগমসহ ২০ থেকে ২৫ জন জানান, প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে এলাকার লোকজন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। হঠাৎ দেখি মৃত আজিজ খানের ছেলে রাসেল খান রাস্তার মাঝে টিনের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে আমাদের চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। অথচ রাসেলের বাবা আ: আজিজ খান এ স্থান দিয়ে রাস্তার জায়গা দিয়েছেন। যার কারনে এ রাস্তায় সরকারি বরাদ্দের মাটি দেয়া হয়েছে। আমাদের এ রাস্তায় টিনের বেড়া দেওয়ায় যানবাহন গাড়ি চলাচল করা তো দূরের কথা লাশের খাট নিয়ে আসা দুস্কর হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আমরা সরকারের নিকট আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তা চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাসেল খান ও তার মা শাহানা বেগমের কাছে জানতে চাইলে টিনের বেড়া দেওয়া জমি তাদের দাবি করে জানান, কাগজমূলে তারা এ জমির মালিক। রাস্তাটি তাদের জমি। সে জমিতে এতদিন রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন আমাদের জমি প্রয়োজন হওয়ায় আমরা জমিতে মাটি ফেলেছি ও বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার আলী হোসেন জানান, রাস্তায় বেড়া দিয়ে চলাচলে বাধা ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। মূলত: অনেক পূর্ব থেকেই ওখান দিয়ে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আমি সরকারি বরাদ্দের মাটি ফেলেছি ঐ রাস্তায়। কিন্তু স্থানীয় ভূক্তভোগী লোকজন জানালো রাসেল খান রাস্তায় বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এতে ২০-২৫টি পরিবারের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ভূক্তভোগীদের ঐ রাস্তা ছাড়া চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা নেই। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আবার তারা ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারবে।


error: Content is protected !!