শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর সদর চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে দুদক

শরীয়তপুর সদর চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে দুদক

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন দুদক ফরিদপুর টিম। মঙ্গলবার দুপুরে দুদক টিম স্কুলটি পরিদর্শণ করেন।
পরিদর্শণ করেন ফরিদপুরের দুর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারি পরিচালক শাহরিয়ার জামিল, আবু সাইদ, সহকারী পরিদর্শক মো. সায়েদুর রহমান, শরীয়তপুর জেলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খান।
এ সময় ফরিদপুরের দুর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারি পরিচালক আবু সাইদ বলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ফাটল, মেঝের ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে যাওয়া, ভিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পান দুদক প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। পরে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। সেই কমিটি মঙ্গলবার স্কুল পরিদর্শণ করেছে এবং স্কুলের ছবি তুলে নিয়েছে। স্কুলের বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে তার কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। তথ্যগুলো প্রতিবেন আকারে দুদক প্রধান কার্যালয় পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের কাজে ঠিকাদার ব্যাপক অনিয়ম করেছে বলেই নতুন ভবনে ফাটল, মেঝের ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে যাওয়া, ভিম নষ্ট হয়ে যাওয়া, দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
এর আগে গত সোমবার স্কুলটি পরিদর্শণ করেন শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া। পরিদর্শণ শেষে তারা আশ্বাস দিয়েছেন কাজটিতে ঠিকাদারের গাফলতি ছিল। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তারা। নতুন ভবনটি এলজিইডিকে এখনও বুঝিয়ে দেয়নি। তারপরে পরিদর্শণে আসল দুদক।
প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানীয় পাঞ্জু শিকদার ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। টিনশেড মূল ভবনের পাশে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর আওতায় ২০১৭ সালে এলজিইডি বিভাগ ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। চারতলা ভবনটির একতলার নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষকে চার কক্ষের ভবনটি বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদার। বুঝিয়ে দেয়ার পর থেকেই ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। মেসার্স আব্দুল মান্নান লস্কর নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণের কাজ পায়। পরে কাজটি মেসার্স সোহেল খান ট্রেডার্স এর কাছে বিক্রি করেন। তখন এলজিইডি সদর উপজেলা প্রকৌশলী ছিলেন এ.এফ.এম তৈয়াবুর রহমান।
নির্মাণের তিন মাসের মাথায় বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তবু ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনে চলছে পাঠদান। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিটি জানালার কলামে বড় বড় ফাটল। মেঝের ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে গেছে। সিঁড়ি ফেটে আলাদা হয়ে গেছে। ভবনের দেয়ালেও রয়েছে অসংখ্য ফাটল। ভবনের বারান্দার গ্রিলগুলোতে বাঁশের স্টিক দিয়ে ফিক দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩৮ জন। শিক্ষক আছেন চারজন।


error: Content is protected !!