বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা দায়ের

চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা দায়ের
চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা দায়ের

ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে অতি দরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ত্রানের চাল আত্মসাৎ এর পৃথক দুটি অভিযোগে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে এই মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আরশিনগর ইউনিয়নের জেলেদের ভিজিএফের ৩৫ বস্তা চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে চেয়ারম্যান সামসুদ্দোহা রতন (৫২) এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) এর বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব আটক রয়েছেন বলে জানায় দুদক।

রবিবার দুপুরে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পেনাল কোডের ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং- দুদক, সজেকা, ফরিদপুর’র (শরীয়তপুর’র) মামলা নং- ০২।

আর মামলাটি রেকর্ড করেন ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক কমলেশ মন্ডল।

মামলার এজাহারে বলা হয়, চেয়ারম্যান ও সচিব পরস্পর যোগসাজসে অনিয়ম ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে ইউনিয়নের উপকারভোগী কার্ডধারী মৎসজীবীদের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম করে ৩৫ বস্তা চাউল(এক হাজার পঞ্চাশ) কেজি চাউল যার মূল্য অনুমান পয়তাল্লিশ হাজার একশত পঞ্চাশ টাকা আত্নসাৎ করে। যা পেনাল কোডের ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা সহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার আরশিনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সচিবকে আটক করে পুলিশ।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় জাটকা ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় ছয় হাজার ৪৭২ জেলেকে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়। এর মধ্যে আরশিনগর ইউনিয়নের ৫৮৪ জন জেলের প্রত্যেকের জন্য ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) শরীয়তপুর শাখা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আরশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব জেলেদের চাল কম দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। পরে ফিল্ড অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও জুনিয়র ফিল্ড অফিসার আনোয়ারুল হক ওই ইউনিয়নে পরিদর্শনে যান এবং চাল কম দিচ্ছেন বলে সত্যতা পান। তারা বিষয়টি ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশকে জানালে তারা গিয়ে হাতে নাতে তাদেরকে আটক করেন।

অপরদিকে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাশঁকান্দি ইউনিয়নের ৩নং ওর্য়াড এর ইউপি সদস্য ইসমাইল ফকির ওরফে দেলোয়ার ফকির(৫২) এর বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে দুপুরে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক সৌরভ দাস বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পেনাল কোডের ৪০৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক) ধারা সহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং- দুদক, সজেকা, ফরিদপুর’র (মাদারীপুর’র) মামলা নং- ০৩। বর্তমানে ওই ইউপি সদস্য আটক রয়েছেন বলে জানায় দুদক।

আর মামলাটি রেকর্ড করেন ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক কমলেশ মন্ডল।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাশঁকান্দি ইউনিয়নের ৩নং ওর্য়াড এর ইউপি সদস্য ইসমাইল ফকির ওরফে দেলোয়ার ফকির ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হওয়ার আশায় প্রতারনা পূর্বক জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া গ্রাহকের নাম ঠিকানা ও সাক্ষর ব্যবহার করে সরকারী আনুমানিক এক হাজার দুইশত ষাট কেজি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ করে।

ত্রাণের চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে গত শুক্রবার (০৮ মে) তাকে আটক করে জেলা হাজতে পাঠায় আইন শৃংখলা বাহিনী।


error: Content is protected !!