রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
ভেদরগঞ্জের তারাবুনিয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল

সাকমো মোহাব্বত আলম ডাক্তার পরিচয়ে প্রতারণা !

সাকমো মোহাব্বত আলম ডাক্তার পরিচয়ে প্রতারণা !

ভেদরগঞ্জের তারাবুনিয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের সাকমো মোহাব্বত আলম ডাক্তার পরিচয়ে একের পর এক প্রতারণা করেই চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে এবার সাদা কাগজে চিকিৎসা পত্র দিচ্ছেন। চিকিৎসাপত্রের নিচের অংশে সীলমোহর দ্বারা লিখে রেখেছেন ডা. মোহাব্বত আলম। অথচ সে বিএমডিসি’র কোন নিবন্ধিত চিকিৎসক না। তিনি নিবন্ধনহীন একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) মাত্র। মোহাব্বত আলমের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার কোন এখতিয়ারই নাই। তার প্রতারণামূলক ডাক্তার পরিচয় বিশ্বাস করে প্রতারিত হচ্ছে জেলার চরাঞ্চলের সহজ সরল মানুষেরা। এই বিষয়ে ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে তার সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে দেয়। আবারও কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নামের পূর্বে ডাক্তার লিখতে শুরু করেছে সেই সাকমো মোহাব্বত আলম। মোহাব্বত আলমের প্রতারণার শেষ জানতে ইচ্ছুক এলাকাবাসী।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ওই হাসপাতালে দায়িত্বে থাকার বিগত ৫ বছরে সাকমো মোহাব্বত আলম প্রতারণা করে এলাকাবাসীকে অনেক ঠকিয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি ডাক্তার পরিচয়ে নিজ নামে প্যাড ছাপিয়ে চিকিৎসাপত্র দিতেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ায় বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত করে করেন। পরবর্তীতে ডাক্তার পরিচয়ে নিজের নামে ছাপানো প্যাডে প্রেসক্রিপশন দেয়া থেকে অনেক দিন বিরত ছিলেন। এখন আবার সাদা কাগজের নিচের অংশে সীলমোহর দিয়ে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। প্রতারণামূলক ভাবে সহজ সরল রোগীদের কাছ থেকে ফিস নিতে শুরু করেছেন সাকমো মোহাব্বত আলম। এই নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে আবার নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আরও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ওই হাসপাতালে আসবাবপত্র ক্রয়ের সরকারি অর্থসহ হাসপাতাল উন্নয়নের অনেক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই বিষয়ে সাকমো মোহাব্বত আলম বলেন, আমারা যাতে নামের পূর্বে ডাক্তার লিখতে পারি সেই জন্য হাই কোর্টে মামলা করেছি। সেই মামলা চলমান রয়েছে। আমার বিএমডিসি থেকে কোন নিবন্ধন নেয়া হয় নাই। তকে খুব শিঘ্রই নিবন্ধন নিয়ে নিব। আমি এখন ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেই না। হাসপাতালের ফার্ণিচার ক্রয়ের জন্য চাহিদা পত্র দিয়েছি। আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য কোন বরাদ্দ হয়েছি কিনা তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেঘনাদ সাহা বলতে পারবে।

এই বিষয়ে ডাক্তার মেঘনাদ সাহার সাথে কথা বলার জন্য অনেক বার ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া হয়। স্টাফদের মাধ্যমে জানা যায় ডা. মেঘনাদ সাহা ৫০উর্ধ বয়স্ক ব্যক্তি। তাই তিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাসভবনে বসে দপ্তরিক কাজকর্ম করেন। সে প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে রাজী হয় নই। তবে এক স্টাফের মাধ্যমে জানিয়েছেন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ফার্ণিচার ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ আছে। খুব শীর্ঘই তা ক্রয় করা হবে।