Saturday 24th February 2024
Saturday 24th February 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

দিনমজুরদেরকে বিদেশ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ শরীয়তপুরের রতন তালুকদারের বিরুদ্ধে

দিনমজুরদেরকে বিদেশ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ শরীয়তপুরের রতন তালুকদারের বিরুদ্ধে

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অসহায় তিন দিনমজুরদেরকে বিদেশ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগটি উঠে ওই গ্রামের মৃত দ্বীন মোহাম্মদ তালুকদারের ছেলে মালয়েশিয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রবাসী হাবিবুর রহমান রতন তালুকদারের (৫০) বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ কবিরাজ, সোহাগ ব্যাপারী ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার দিন মজুরের কাজ করতেন। দিন মজুরের কাজ করে তাদের সংসার চালানো ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে কষ্ট হয়। তাই সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরানোর জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করেন তারা। তাদের গ্রামে দালাল হাবিবুর রহমান রতন তালুকদারের বাড়ি। হাবিবুল্লাহ, সোহাগ ও সাইফুল বিদেশের ব্যাপারে পরামর্শের জন্য যান দালাল রতনের কাছে। রতন তাদের ভালো কাজ দেবে বলে মালয়েশিয়া নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে হাবিবুল্লাহ, সোহাগ ও সাইফুল তিনজনে মিলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন দালাল রতনের হাতে।

২০১৫ সালে তাদের মালয়েশিয়া নেন। কিন্তু হাবিবুল্লাহ কবিরাজ, সোহাগ ব্যাপারী ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার মালয়েশিয়া গিয়ে দেখেন তাদের স্টুডেন্ট ভিসা দেয়া হয়েছে এবং যাওয়ার পর দিন তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ভিসার মেয়াদ না থাকায় মালয়েশিয়া সরকার তাদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। তারা বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন। দালাল রতন তাদের ভিসা দিয়ে প্রতারণা করেছেন ও জেল খাটিয়েছেন। এ ঘটনায় দালাল রতনের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়, সচিবালয় ও ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগে তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান ভূক্তভোগিরা।

হাবিবুল্লাহ কবিরাজ (৫০) বলেন, হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার আমাকে বিদেশ নিবে বলে সাড়ে ৩লাখ টাকা নেন। টাকাগুলো জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে জোগার করেছি। ওই টাকায় তিনি মালয়েশিয়া নেন। কিন্তু মালয়েশিয়া পৌঁছলে দেখি আমার ভিসার মেয়াদ শেষ এবং স্টুডেন্ট ভিসা। ৪৪ বছর বয়সে কি স্টুডেন্ট ভিসা হয়? কত বড় প্রতারক দালাল রতন তালুকদার। আমরা গরিব ও অশিক্ষিত ভিসার সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। তাই মালয়েশিয়া গিয়ে কাজতো করতে পারিইনি, আবার জেল খেটেছি। মালয়েশিয়া থেকে এসে ভ্যানে করে কাঁচা মাল বিক্রি করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। প্রতারক দালাল রতন তালুকদার ও তার পরিবারের কাছে টাকা ফিরত চাইলে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।

সোহাগ ব্যাপারী ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রতারক দালাল রতন তালুকদার আমাদের মালয়েশিয়া নেবে বলে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে। প্রফেশনাল ভিসা দেয়ার কথা। কিন্তু তা না দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়েছে। ভিসার মেয়াদও কম ছিল। তাই জেল খেটেছি। আমাদের দেশে ফিরতে আরও ৮ লাখ টাকা লেগেছে। এই বিদেশ বিদেশ করে সর্বচ্চ হারিয়েছি এবং ঋণে জর্জরিত হয়েছি। প্রতারক দালাল রতন তালুকদার আমাদের টাকাও ফিরোত দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায় নি। তারা পলাতক রয়েছেন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর-আল-নাসীফ বলেন, আমি মাত্র শুনলাম। এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের এলাকার কয়েকজন যুবককে মালয়েশিয়া নিয়ে প্রতারণা করেছে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার। তাদের টাকাও দিচ্ছে না রতন তালুকদার। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী আমাকে অবগত করেছে। দালাল রতন তালুকদারকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।