রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
শরীয়তপুরে শিক্ষক স্বামীর যৌতুক ও পরকিয়ার কারনে

নির্যাতনের দায়ে ১০ বছরের সংসার হারালো রুমা

নির্যাতনের দায়ে ১০ বছরের সংসার হারালো রুমা

শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাটে মো: নজরুল ইসলাম নামে এক সরকারি প্রাইমারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরকীয়ার মাধ্যমে বিয়ে ও যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্ত্রী রুমা বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর-২৬৬/২০১৯( গোসাইরহাট) যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা মোতাবেক আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত মো: নজরুল ইসলাম শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের বড় কাচনা গ্রামের মো: লাল মিয়া সরদারের ছেলে। তিনি ১৭নং দক্ষিণ রানীসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে।

পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, মো: নজরুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে নি:সন্তান অসহায় রুমা বেগম বাধ্য হয়ে গত ২৪ অক্টোবর সিআর ২৬৬ /২০১৯(গোসাইরহাট) যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত শরীয়তপুরে একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলাটিতে আসামী নজরুল ইসলামকে এখনো গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেনি বিজ্ঞ আদালত।

মামলার বাদি নি:সন্তান রুমা বেগম বলেন আমার স্বামী নজরুল ইসলাম আমার থেকে যৌতুকের টাকা চান আমি অবাক হয়ে যাই, ১০ বছর সংসার জীবনে সে এমন বাহানা করেনি পিটিআই থেকে এসেই হঠাৎ করে গতবছর থেকেই সে আমার প্রতি অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। বাবার বাড়ি থেকে ৫ লক্ষ টাকা আনতে চাপ দেয়। চাকরিতে নজরুলের পরিবারের যে টাকা খরচ হয়েছে, তার জন্য নজরুলের পরিবার খোটা দেয়। কারণে অকারণে গা ঘেঁষে ঝগড়া করে এবং মারধর করে এক পর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে শরীয়তপুর জজ কোর্টে মামলা করি। আমি জানতে পেরেছি পিটিআই তে গিয়ে একটি মেয়েকে সে বিয়ে করেছে, এজন্যই আমার সাথে এ অমানবিক নির্যাতন করেছে।

এ বিষয়ে রুমা বেগমের বাবা মো: আদিব কামাল(বাবু) জানান, আমার মেয়ে রুমা বেগমের সাথে বড়কাচনা গ্রামের লালমিয়া সরদারের ছেলে নজরুল ইসলাম সরদারের গত ১০ বছর পূর্বে শরাহ শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। আমার মেয়ের কথায় নজরুল ও তার ভাইকে চাকরির ব্যাপারে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু নজরুল তার প্রতিদানে আমার মেয়ে রুমাকে কারনে-অকারনে অমানবিক নির্যাতন করে। আমার নিকট থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে। আমি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এখন এতো টাকা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।

এই বিষয়ে রুমার চাচা ইলিয়াস জমাদ্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বলেন রুমার সাথে নজরুলের একবছর যাবৎ বনিবনা হয় না। এ বিষয়ে বসাও হয়েছে। আমরা মিলমিশ করে দিয়েছি। কিন্তু একদিন হঠাৎ দেখি রুমা আমাদের বাড়ির উঠানে কান্নাকাটি করে পড়েছে। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কি হয়েছে? নজরুল আমাকে মেরেছে, আমি এ কারনে এককাপড়ে চলে এসেছি।

স্থানীয়রা বলেন, নজরুল আগে ভালোই ছিল। কিন্তু পিটিআই থেকে আসার পরেই রুমার প্রতি অমানবিক নির্যাতন করতো। পিটিআই থেকে কি ওকে এই প্রশিক্ষণ দিয়েছে? একজন শিক্ষকের দ্বারা এমন ঘটনা কাম্য নয়। এর উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার।
তারা আরো বলেন, নজরুল এর স্ত্রীদের ও তার দ্বারা নির্যাতিত নারীরা যেন ন্যায় বিচার পায় ও তার স্ত্রীদের অধিকার আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, আমি কোন মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়াই নাই, বিয়েও করিনি। নির্যাতনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে নজরুল বলেন, রুমাই কিছু না বুঝে আমাকে গালিগালাজ করতো। কেন করতো? জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি নাকি বিয়ে করেছি! একটি মিথ্যে উসিলা দিয়ে আমাকে যৌতুকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

মামলার বিষয়ে বাদি পক্ষের আইনজীবী বলেন, আমার দায়ের করা ২৪-শে অক্টোবর ২০১৯ তারিখের সিআর-২৬৬/২০১৯( গোসাইরহাট) যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা মামলায় আসামি নজরুল ইসলামকে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করা হউক এবং তাকে জামিন না দেয়া হউক এটাই আমি চাই।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদকে মোবাইলে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা একটি পারিবারিক বিষয়। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নয়। তবে যদি প্রাতিষ্ঠানিক আইনের আওতায় পড়ে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।