বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ ইং
গোসাইরহাটের নাগের পাড়ায়

প্রতিবন্ধীর নড়বড়ে ঘর থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

প্রতিবন্ধীর নড়বড়ে ঘর থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মহসিন সরদারের বিরুদ্ধে এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর নড়বড়ে কাঁচা ঘর থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ইউনিয়নবাসীর কাছ থেকেও অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ায় অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউনিয়নবাসী।

নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কেচুয়ারচর গ্রামের মৃত মকবুল হাওলাদারের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম হাওলাদার (৪৫) বলেন, আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে দুলাল হাওলাদার। দুলাল ইটের ভাঁটায় শ্রমিকের কাজ করে। আর ছোট ছেলে কাউসার হাওলাদার শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার বাবা দুই বছর আগে মারা গেছে।

তিনি বলেন, আমি প্রতিবন্ধী। আমার তেমন (ভালো) একটি ঘর নেই। আমাকে কোলে করে বাহিরে নিতে হয়, কোলে করে ঘরে আনতে হয়। আমি কোন কাজ-কর্ম করতে পারি না। তব্ওু আমার কাছ থেকে নড়বড়ে কাঁচা ভাঙা ঘর থেকে ট্যাক্স বাবদ চেয়ারম্যান (মো. মহসিন) লোক দিয়ে ৩০০ টাকা নিয়েছে।

একই গ্রামের আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে শ্রমীক ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, আমি শ্রমিকের কাজ করি। যখন যে কাজ পাই তাই করি। আমার একটি ঘর কোন রকম চালা আছে তাও বাঁশ দিয়ে ফিক দিয়ে রাখা। চেয়ারম্যান ঘরের ট্যাক্স বাবদ আমার কাছ থেকে ৬০০ টাকা চেয়েছে। আমি টাকা দেই নাই। পরে লোক পাঠিয়ে স্ত্রী রাবেয়ার কাছ থেকে ৬০০ টাকা নিছে চেয়ারম্যান। স্ত্রী অনেক কষ্টে টাকাটা জুগিয়েছিল।

অভিযোগ ও ইউনিয়নবাসী সূত্র জানায়, নাগেরপাড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ নিম্নআয়ের ও নিতান্তই খেটে খাওয়া দিনমজুর। কিন্তু নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহসিন সরদারসহ ইউপি সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করে মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায় করছেন। যা কারো কারো কাছ থেকে দশগুন পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রতিবন্ধী ও দিনমজুর পরিবাররাও বাদ যায়নি। একারণে এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তাই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স ফেরত দেয়া অতি প্রয়োজন। সুষ্ঠুভাবে ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের জারী করা গেজেট অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট নিরীহ মানুষকে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের হাত থেকে বাঁচানো দরকার বলে জানান এলাকাবাসী। অতিরিক্ত নয়, ২০১৩ সালের গেজেট অনুযায়ী ট্যাক্স পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউনিয়নবাসী। এছাড়া সম্প্রতি ট্যাক্সের বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নবাসী ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে।

গত ২০ জানুয়ারি এ ব্যাপারে ভ্রম্যমান আদালতের মাদ্যমে মো. আবু ইউসুফ মাতুব্বর ও সেলিম মাদবরকে ৫ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করান চেয়ারম্যান এমনটাই অভিযোগ তাদের। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদসহ সব ধরনের কাগজপত্র তুলতে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ উদ্যোক্তা আমেনা বেগম বেবি বলেন, জন্মনিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি ৫০ টাকা। কিন্তু আমরা অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেই। আর কোন সনদে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না।

কেচুয়ারচর গ্রামের অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সবুজ বলেন, আমার একতলা বিশিষ্ট ভবন। যা এক হাজার স্কয়ার ফিট। ঘরটিতে চার বছরে ৫ হাজার ৬০০ টাকা ট্যাক্স ধরেছে চেয়ারম্যান। আমি দেখেছি, সরকারি গেজেট অনুযায়ী চার বছরে ঘরটিতে আসে মাত্র ৬০০ টাকা। বেশি চাওয়ায় টাকা দেইনি। গেজেট অনুযায়ী দেব।

আবু ইউসুফ মাতুব্বর বলেন, চেয়ারম্যান মহসিন অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স নিচ্ছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদসহ সব ধরনের কাগজপত্র তুলতে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিবাদ করায় আমাকে জরিমানা করান চেয়ারম্যান।

এদিকে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মহসিন সরদার বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স সবার জন্য বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে। কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে বিষয়টি দেখবো। কিছু লোক আগামীতে এই ইউনিয়নে নির্বাচন করবে তাই ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। অতিরিক্ত ট্যাক্স নেয়ার বিষয়টি মিথ্যা। তবে জন্মনিবন্ধনে ১০০ টাকা বেশি নেয়া হয়।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন মুঠোফোনে বলেন, এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করছি। একটি গণ শুনানিও হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।