সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

জাজিরায় চাঁদা না দেওয়ায় আইনজীবীকে প্রাণনাশের হুমকি

জাজিরায় চাঁদা না দেওয়ায় আইনজীবীকে প্রাণনাশের হুমকি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি ও শরীয়তপুর জজকোর্টের এপিপি এডভোকেট আলমগীর হোসেন হাওলাদারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার নাওডোবা বাজারে প্রকাশ্য জনসম্মুখে স্থানীয় চাঁদাবাজ শরীফ হাওলাদার ও তার লোকজন এডভোকেট আলমগীর হোসেন হাওলাদারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই আইনজীবী।

এ ব্যাপারে এডভোকেট আলমগীর হোসেন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে আমি নাওডোবা বাজারের একটি দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় নাওডোবা ইউনিয়নের আলীমুদ্দিন হাওলাদার কান্দী গ্রামের সলেমান হাওলাদারের ছেলে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ শরীফ হাওলাদার তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে আমার কাছে ফুটবল টুর্নামেন্টের নাম করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় চাঁদাবাজ শরীফ হাওলাদার আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান অপদস্থ করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় শরীফ হাওলাদার আমাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার সময় উপস্থিত বাজারের লোকজন এর প্রতিবাদ জানায়। খেলার নাম করে শরীফ হাওলাদার ও তার লোকজন বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছে। এর আগেও সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে। তার ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চায়না।

শরীফ হাওলাদারের হুমকিতে আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি। যে কোন সময় শরীফ হাওলাদার ও তার লোকজন আমার ক্ষতি সাধন করতে পারে। এ ব্যাপারে আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।

ঘটনার সময় উপস্থিত বাবুল হাওলাদার, দাদন ঢালী, ঠান্ডু চোকদার সহ বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, শরীফ হওলাদার ও তার লোকজন এডভোকেট আলমগীর হোসেন হাওলাদারের কাছে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করেছে। এডভোকেট আলমগীর হোসেন হাওলাদার চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শরীফ হাওলাদার তার সাথে খারাপ আচরণ করেছে এবং তাকে হুমকি দিয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে শরীফ হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে আমরা আমাদের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর বাবার মরহুম এড. সুলতান হোসেন মিয়ার নামে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি। এ টুর্নামেন্টের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা তুলেছি। এডভোকেট আলমগীর হাওলাদারের কাছে চাঁদা চাইলে সে উল্টাপাল্টা কথা বলে। এ নিয়ে তার সাথে আমার একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে।