বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং

ঈদুল আজহায় এবার শরীয়তপুরে ৩০ মণ ওজনের ভাগ্যরাজের মূল্য হাকছে ১৮ লাখ !

ঈদুল আজহায় এবার শরীয়তপুরে ৩০ মণ ওজনের ভাগ্যরাজের মূল্য হাকছে ১৮ লাখ !

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পূর্র্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পৈলন মোল্লার কান্দি গ্রামে ১২শ কেজি বিশালাকৃতির কোরবানির গরু পালন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক কালাম মাদবর। জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোরবানির জন্য ৩০ মণ ওজনের গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা।

কৃষক কালাম মিয়ার খামারে পরম যত্নে লালন-পালন হচ্ছে ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় গরুটি জার নাম ভাগ্যরাজ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী ভিড় করেন।

প্রথমে দুধেল গাভি পালন করলেও গত শাড়ে তিন বছর ধরে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এই গরুটি পালন করছেন। ইতিমধ্য ৩০ মণ ওজনের গরুটি পালন করে তিনি সারাদেশে হৈ চৈ ফেলে দেন। এবার জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ওই কোরবানির গরুর নাম ‘ভাগ্যরাজ’।
মোঃ কালাম মাদবর এর মেয়ে নিসাত আক্তার জানান, গরু লালন-পালনের সঙ্গেই আমাদের ভাগ্য জড়িয়ে আছে। এজন্যই এবার কোরবানির গরু টির নাম ‘ভাগ্যরাজ’ রাখা হয়েছে। আমার বাবা কালাম মাদবর দেশীয় পদ্ধতিতে গরুটি মোটাতাজা করছেন ও তার সাথে আমার মা- দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালাম মাদবর ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম ভাগ্যরাজকে গোসল করাচ্ছেন। এরপর তার মেয়ে একটি কাপড় দিয়ে গরুটির শরীর মুছিয়ে দেন। গরুটির সামনে পেছনে ও ওপরে বৈদ্যুতিক পাখা লাগানো। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ চলে গেলে কালম মাদবর হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকেন ভাগ্যরাজকে। ঈদের বাকি কয়েক দিনে গরুটির ওজন আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালাম মাদবর এর-স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, আমার -এক ছেলে ও দুই মেয়ে তার তাই নিজের সন্তানের মতোই ভাগ্যরাজকে লালন-পালন করে থাকি । নিজেরা যা খেতে পান না তাই খাওয়ান পশুটিকে। কেবল ভালো দাম পেলেই তাদের সবার পরিশ্রম স্বার্থক হবে।

কৃষক কালাম মাদবর গরুটির বিষয় পালনের নিয়মাবলী প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। প্রাণী সম্পদ বিভাগও তাকে সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

কালম মাদবরের মেয়ে নিসাত আরো জানান, গত বছর ভাগ্যরাজ কে-কোরবানির হাটে নিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল তাদের। তাই এবার উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই ভাগ্যরাজকে বিক্রি করতে চান। ক্রেতা চাইলে কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত গরুটি লালন-পালন করে দিতেও আগ্রহী তারা। ভাগ্যরাজের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা। ভাগ্যরাজকে কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা ০১৭৪০৭৪১৯৬৫ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।