মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ ইং

পদ্মা নদীর পাড় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়

পদ্মা নদীর পাড় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড়

কেউ আবার শুধুই পদ্মা সেতু ক্যামেরাবন্দী করছিলেন। দেখতে (আজ) শনিবার ছুটির দিনে পদ্মা নদীর পাড় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতেও দেখা গেছে অনেককে। ট্রলারে করে পদ্মা সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তেও যেতে দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থীদেরকে।

আর মাত্র বাকী ২১ দিন। ২৫ জুন খুলে দেওয়া হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।পদ্মা সেতু এখন বাস্তবের কাছাকাছি। তাই তো স্বপ্নের সেতুটি সামনে থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাজিরা নাওডোবা ভিড় করেছিলেন অনেকে। পদ্মা সেতু কাছ থেকে দেখে, ছবি তুলে আনন্দে ভেসেছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের নাওডোবা গ্রামের পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রতিদিনেই বেলা ১১টা থেকে সন্ধা সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত নানা শ্রেণি পেশার মানুষ পায়ে হেঁটে সেতু দেখতে যাচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এসেছেন সেতু দেখতে। কেউ এসেছেন সপরিবারে। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহনে করে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন স্বপ্নের সেতুটি একনজর দেখতে। এ সময় অনেকেই সেতু পেছনে রেখে সেলফি তোলেন। তবে সেতুর নিরাপত্তার স্বার্থে কাছে যেতে পারছেন না। দূর থেকে দেখে ফিরছেন দর্শনার্থীরা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সংযোগ ঘটাবে এই সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি চালু হলে অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়াবে ১.৫ শতাংশ। এতে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে। দারিদ্র্য বিমোচন হবে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। সেতু নির্মাণে মোট খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। সেতু চালু হলে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা। প্রবহমান প্রমত্তা পদ্মার ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলবে যানবাহন ও ট্রেন। ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই সেতু।
সেতুর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা বলছেন, পদ্মা সেতু দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসছেন। সেতু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেতুর কাছে দর্শনার্থীদের যেতে দিচ্ছি না আমরা।
শফিকুল মিয়া নামের এক দর্শনার্থী বলেন, তাঁর বাড়ি ফরিদপুর। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার সংবাদ পেয়ে দেখতে তর সইছিল না তাঁর। তাই বন্ধুদের নিয়ে দুপুরেই চলি আসছি। মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পর এ সেতু দিয়েই বাড়ি থেকে ঢাকা যাব আর আসবো।’

পদ্মা সেতু দেখতে আসা আরও কয়েকজন জানান, এর আগে কেবল সংবাদপত্রের পাতায় আর টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর সংবাদ দেখেছেন। বাস্তবে সেতুটি একনজর দেখতে চলে এসেছেন জাজিরা নাওডোবা ঘাটে।

দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, পদ্মা সেতু একসময় স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। সেতুটি নিজ চোখে দেখার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তাই আজ শনিবার ছয় বন্ধু মিলে চলে এসেছেন পদ্মার পাড়ে।

দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপরের তলায় থাকছে চার লেনের সড়ক। নিচের অংশে চলবে ট্রেন। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত সেতুটি নির্মাণ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন। সেতুর দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর চারপাশে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা আছে। এই নিরাপত্তা সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত থাকবে। মূল সেতুর ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ৯৯.৯৯ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ল্যাম্প পোস্টের লাইটিং টেষ্ট করা হবে। ১৫ জুন সেতুতে পুরোপুরি আলো জ্বলবে। আমরা সেভাবেই কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি।’

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ মাসের ২৫ জুন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল এই সেতু উদ্বোধন করবেন তিনি।


error: Content is protected !!