বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই সফর, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

নড়িয়ায় শতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ ও পুলিশের ফাঁকা গুলি, এলাকায় থমথমে অবস্থা

নড়িয়ায় শতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ ও পুলিশের ফাঁকা গুলি, এলাকায় থমথমে অবস্থা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দুই শতাধিক ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিািত নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় নড়িয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি।

নড়িয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ, তার সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতা জবেদ শেখ এবং নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, মোক্তারেরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌকিদার, তার সমর্থক নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোখলেছ ব্যাপারী গ্রুপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নড়িয়া বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশের বাজারে হঠাৎ করে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঘন্টা ব্যাপি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের সময় দুই শতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃস্টি করে তারা। ঘটনার সময় বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিািত নিয়ন্ত্রণ করতে ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে নড়িয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

তবে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ বেপারী সমর্থক মিজান বেপারী (৪০), আল আমিন মোড়ল (২২), অনিক বেপারী (২২), সম্রাট (২৫) ও বাদশা শেখের সমর্থক নুর হোসেন খান (১৮), রিপন শেখ (২৮), বাবু ছৈয়াল (১৮) সহ উভয় গ্রুপের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নড়িয়া বাজারসহ আশ পাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ বলেন, আমার সমর্থক নড়িয়া বাজারের তেল ব্যবসায়ী রিপন শেখের সাথে শাহ আলম চৌকিদারের সমর্থক রাজ্জাক ছৈয়ালের সাথে ডিজেল ক্রয় বিক্রয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে এ নিয়ে শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ ব্যাপারীর লোকজন ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আমার ২/৩জন সমর্থক আহত হয়।
রিপন শেখের বাবা জবেদ শেখ বলেন, প্রতিদিন রাতে শাহ আলম চৌকিদার ও তার লোকেরা আমার ছেলে রিপনের দোকানের সামনে আড্ডা করে এবং ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের খারাপ মন্তব্য করে। এর প্রতিবাদ করায় ককটেল বিষ্ফোরন ঘটিয়ে আমার ছেলেকে মারধর করেছে শাহ আলম চৌকিদারের লোকেরা। শুধু তাই নয় আমার ছেলের দোকান তালা বদ্ধ করে রেখেছে তারা। আমি এর বিচার চাই।

নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোখলেছ বেপারী বলেন, আমি নড়িয়া বাজারে মাছের ব্যবসা করি। প্রায় ৩ মাস পূর্বে বাদশা শেখ ও তার লোকজন আমাকে ও আমার ভাইদের মারধর ও ভাংচুর করে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়। সেই থেকে বাদশা শেখ আমাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। তার ভয়ে প্রায় ৩ মাস আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রাতে হঠাৎ করে বাদশা শেখের নেতৃত্বে দুই দিক থেকে আমাদের উপর হামলা চালায়। পরে আমরা আত্মরক্ষায় তাদেরকে প্রতিহত করি।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম চৌকিদার বলেন, আমরা কয়েক জন মিলে নড়িয়া বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশের বাজারে কবিরের কাঠের দোকানে বসা ছিলাম। হঠাৎ করে বাদশা শেখের লোকজন কোন ঘটনা ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে ককটেল বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ৪/৫ জন লোক আহত হয়। এর আগে গত ১ সেপ্টম্বর রাতে একই স্থানে আমার লোক আবুল কাশেম মাদবর, আবুল খায়ের সরদার ও সিহাব চৌকিদারকে রিপন শেখ ৬/৭ জন লোকজন নিয়ে এসে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় ও স্থান ত্যাগ করতে বলে। প্রতিনিয়ত আমাদের লোকদের অপদস্ত করছে রিপন শেখের লোকেরা। যা মেনে নেয়ার মতো না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) এসএম মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ বেপারী এক পক্ষ নেয় এবং অপর পক্ষ বাদশা শেখ ও জবেদ শেখের সাথে এ ঘটনা ঘটে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে ৫২ রাউন্ড সর্টগানের (রাবার বুলেট) ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ মামলা করেনি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে, তার প্রস্তুতি চলছে।