রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং

শরীয়তপুর ভুমিহীনের জমি বন্দবস্ত পেল ইটালি প্রবাসী 

শরীয়তপুর ভুমিহীনের জমি বন্দবস্ত পেল ইটালি প্রবাসী 

শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের বেপারিকান্দি গ্রামে ভুমিহীনের জমি বন্দবস্ত নিয়েছে ইটালি প্রবাসী হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী বেবী বেগম। এ বিষয়ে একই গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধা বন্দবস্ত বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাস জায়গা ঘেঁষে ৩ তলা বাড়ি করেছেন ইটালি প্রবাসী হাফিজুর রহমান। জমির উপর দিয়ে প্রায় ৬/৭ টি পরিবার যাতায়ত করে। পরিবার গুলো অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার উপর টয়লেটের ট্যাংকি নির্মাণ করায় তাদের যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে।

বন্দবস্ত বাতিলের আবেদনকারি আফজাল হোসেন আবেদনে উল্লেখ করেন, কৃষি খাস জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধান রয়েছে দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, নদী ভাঙ্গা পরিবার, সক্ষম পুত্রসহ বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা পরিবার, কৃষি জমি ও বাস্তুভিটাহীন পরিবার, অধিগ্রহণের ফলে ভুমিহীন হয়েছে এমন পরিবার ও বসতবাড়ি ও কৃষি জমি নাই কিন্তু পরিবারটি কৃষি নির্ভর এ শ্রেণির ব্যাক্তিবর্গই ভুমিহীন বন্দোবস্তোযোগ্য। তবে এসব শর্তের মধ্যে একটি ও ইটালী প্রবাসী হাফিজুর রহমান ও বেবী বেগমের নেই।

তিনি আরো বলেন, নড়িয়া উপজেলাধীন নশাসন ইউনিয়ন ভুমি অফিসের আওতাধীন ২৩ নং নশাসন মৌজার মোঃ হাফিজুর রহমান পিতা আঃ আজিজ বেপারী বেবী বেগম স্বামী মোঃ হাফিজুর রহমান সাং – নশাসন, উপজেলা নড়িয়া জেলা শরীয়তপুর, কর্তৃপক্ষকে ভুলতথ্য দিয়ে কেইস মুলে ১ নং খাস খতিয়ানের ৪৯৯,৩৪২/১২২৯ ও ৫৪১/১১৩০ নং দাগের ২৬ শতাংস জমি ২৬/১২/২০১৮ তারিখের ৩৯৫৩ নং কবুলিয়াত নামা দলিল মুলে ভুমিহীন বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের নিজ নামে নামজারী ও জমাভাগ হাসিল করেন। যাহার নামজারী ও জমাভাগ কেস নং ওঢ-চ-ও-১০৪৯/২০১৮-২০১৯ খ্রিঃ।

ভুমিহীন বন্দোবস্তোকারী আজিজ বেপারী ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী বেবী বেগম এর নামে ২৩ নং নশাসন মৌজায় বি,আর,এস ১৩৬৪ নং খতিয়ানে ০.১৩৬৩ একর এবং সৃজিত ১৫৩২ নং খতিয়ানে ০.১১১৩ একর জমি রেকর্ড আছে এছাড়াও তার নামে আরও রেকর্ড ভুক্ত খতিয়ান আছে, তব্ওু কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে হাফিজুর রহমান ও বেবী বেগম তাদের নিজ নামে বন্দোবস্তো দলিল করেন।

প্রতিবেশী রাবেয়া বলেন, একই পরিবারে দুই ছেলে সহ বাপ-চাচা মিলে ৬ জন ইটালি থাকে। এরাতো টাকার গরমে সব কিছু করে ফেলে। আমাদের ভবিষ্যতে কি হবে?

প্রতিবেশী আঃ রহিম বেপারি ও আফজাল বেপারি বলেন, তারা চাষবাস করার জন্য সরকারের কাছ থেকে এনেছে। বিল্ডিং এর কিছু অংশ খাস জায়গার ভেতর পরেছে। তারা ইটালি প্রবাসী। কিভাবে বন্দবস্ত পেলো তা আমাদের জানা নেই।

নশাসন ভুমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মাসুদ বলেন, বেবি আক্তার ও হাফিজুর রহমান এরা বন্দবস্ত পাওয়ার যোগ্য না। তারপরও তাদের কিভাবে ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তা সুমন দত্ত দিয়েছে। এটাতো আপনারা ভালো বোঝেন!

সাবেক নশাসন ভুমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) সুমন দত্ত বলেন, আমার এখানে কোন হাত নেই। এটা জবাবদিহিতা করবে উপজেলা এসিল্যান্ড। আপনারা তার কাছে জিজ্ঞাসা করেন। আমি এবিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না।

হাফিজুর রহমান ছেলে মোকলেছুর রহমানকে অভিযোগের বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, আপনারা কেন এসেছেন। আপনারা সবাই এক। এখানে সাংবাদিক এসেছিল। তাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা এসিল্যান্ড মো: মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমার আগের এসিল্যান্ড এই কাজ করেছে। আমি নতুন এসেছি। এটা ঠিক হয় নাই, তদন্তকরে আমরা প্রতিবেদন দিব।