বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং

এলাকার ৫’শ দুঃস্থ-অসহায়-প্রতিবন্ধী মানুষকে এক বেলা খাওয়ালেন ইউপি চেয়ারম্যান

এলাকার ৫’শ দুঃস্থ-অসহায়-প্রতিবন্ধী মানুষকে এক বেলা খাওয়ালেন ইউপি চেয়ারম্যান

পঞ্চাশর্ধ্ব সিরাজ রাড়ী বছর তিনেক ধরে শারিরীক অসুস্থ। একমাত্র ছেলে ইয়াসিন রাড়ী (২০) একটি টিনের দোকানে কাজ করেন, যা পায় তা দিয়েই চলে সংসার। উৎসব কিংবা কারও বাসায় দাওয়াত পেলে ভালো খাবার জোটে। এর বাইরে ইচ্ছা থাকলেও ভালো খাওয়া হয় না। অনেক দিন পর আজ রোববার দুপুরে এক বেলা পেট পুরে ভালো খেয়েছেন সিরাজ। শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে শ্যামলী আক্তারকে (১৬) নিয়ে এসেছেন দাওয়াতে।

সিরাজের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ার ঘরিসার ইউনিয়নের চরলাউলানি গ্রামে। তাঁর এক ছেলে দুই মেয়ে। তবে তাঁর আরেক ছেলে শাহজালাল লঞ্চ দুর্ঘটনায় ১০ বছর আগে মারা গেছেন।

সিরাজ-শ্যামলীর মতো প্রতিবন্ধী ও দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রব খান তার নিজ বাড়িতে এ আয়োজন করেছিলেন। তাঁর নিমন্ত্রণ পেয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ হাজির হয়েছিলেন সেখানে। কোনো উপলক্ষ কিংবা উদ্দেশ্য নয়, এলাকার দুঃস্থ-অসহায়-প্রতিবন্ধী মানুষদের এক বেলা খাওয়ানোর ইচ্ছা থেকেই এ আয়োজন। চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চেয়ারম্যান রব খানের বাড়ির সামনের উঠানে চার দিকে কাপড় দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সারি সারি চেয়ার-টেবিল সাজানো। পাশেই প্যান্ডেলে রান্নার আয়োজন। রোববার ১৫ জানুয়ারী দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবন্ধী, অসহায় বৃদ্ধ, ভিক্ষুক, দুস্থ মানুষেরা দাওয়াতে আসতে শুরু করেন। স্ক্রেজ ভর দিয়ে দাওয়াতে এসেছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। পাঁচ শতাধিক মানুষ এসেছিলেন রব খানের দাওয়াতে।

চেয়ারম্যান আব্দুর রব খান বলেন, আমি ঘরিসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিনবার চেয়ারম্যান। এটার কারণ ইউনিয়নের লোকজন আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাদের ভালোবাসায় সিক্ত। এই ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী, অসহায় বৃদ্ধ, ভিক্ষুক, দুস্থ মানুষেরা আছে। তাই চিন্তা করেছি তাদের একবেলা ভালো কিছু খাওয়াবো। তাই গ্রামে গ্রামে গিয়ে দুস্থ মানুষদের দাওয়াত দিয়েছিলাম। আজ দাওয়াতে পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। ভালোই লাগছে। খাবারের ছিল গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, মসুর ডাল ও সালাদ। প্রত্যেকের জন্য পৃথক পানির গ্লাস।

ইউনিয়নের চরমহন থেকে দাওয়াতে এসেছেন সাহিদা বেগম (৫৫)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে মামুন মালত (১৮)। খাওয়া শেষে সাহিদা বেগম বলেন, ভালো খাইছি। জানি না কী নিয়তে খাওয়াইলো। তয় যে নিয়তে খাওয়া দেক, আল্লাহ তার ভালো করুক। মনের ইচ্ছা জানি পূরণ করি দেয়।

চেয়ারম্যান আব্দুর রব খান আরও বলেন, ইউনিয়নের ৮৫জন ইমামকেও দাওয়াত দিয়েছিলাম, তারাও এসেছেন। আমাদের সকলের জন্য দোয়া করেছেন। এদিকে প্রতিবন্ধী, অসহায় বৃদ্ধ, ভিক্ষুক, দুস্থ মানুষেরা যারা এসেছিলেন তাদের ভাড়াও দিয়ে দিছি। এটা আমার দায়িত্ব ছিল।

 


error: Content is protected !!