
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বেড়েছে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, ধর্ষণ ও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধ।
বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনায় ইউনিয়ন বাসীকে রীতিমতো আতঙ্কিত করে তুলেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ এসব অপরাধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বেড়ে যায় তার অপকর্মের গতি। এলাকার কোন প্রতিবাদী যুবক কিংবা রাজনৈতিক নেতা সহ যে কেউ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদেরকে চেয়ারম্যান স্বপনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে জীবনের তরে শেষ করে দেয়া হয় তার পালিত গুন্ডা বাহিনী দিয়ে।
বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন ইউনিয়ন জুড়ে গড়ে তুলেছেন রামরাজত্ব।
তার বেপরোয়া কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে তার নিজ দলীয় নেতা কর্মীরা। নিজের প্রয়োজনে তিনি দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেও পিছপা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী।
চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনকে সহ তার সাঙ্গপাঙ্গ আরো ১৮ জনের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১১ বছর ধরে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান স্বপনের ছত্রছায়ায় চলছে ধর্ষণ, হত্যা, ডাকাতি, মারামারি সহ নানা ধরনের অপরাধ। এর মধ্যে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১৩টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে চেয়ারম্যান স্বপনের মদদ রয়েছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৭ মে বিকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আয়ুব আলী (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র মারা যায়। সে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইজারকান্দী পূর্বপাড়া এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় আলোর সেতু পাঠাগার দেখাশোনার দায়িত্বেও ছিল।
এদিকে মৃতের পরিবারের অভিযোগ কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন তাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে, এতে তার মৃত্যু হয়। মৃতের মা আয়েশা বেগম বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। চেয়ারম্যান স্বপনের আর্শিবাদপোষ্ট ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করাসহ অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়াও কলেজ ছাত্রের হাতের কব্জি কাটার এক মামলায় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে আসামি করা হয় যার মামলা নং ১৬(২)২০২০ইং।
এখানেই শেষ নয়। ২০১০ সালের ২৩ মার্চ একই দিন পৃথক সময় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সালামকে হত্যা করা হয়। পরের দিন আওয়ামী লীগ নেতা লাল মিয়াকে হত্যা। ২০১১ সালে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খাগকান্দা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির সিরাজীকে হত্যা।
২০১২ সালের ফিরোজ হত্যা। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ২০১২ সালে কাঁঠমিস্ত্রী রব মিয়া হত্যা। ২০১৫ সালে খালিয়ার চর গ্রামের প্রবাসী রাসেল হত্যা। ২০১৫ সালে পূর্বকান্দী গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্রী শারমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা। ২০১৪ সালে পূবকান্দী গ্রামের যুবলীগ নেতা রব মিয়া হত্যা। একই সালে কদমির গ্রামে আমান হত্যা ও পূর্বকান্দী গ্রামে তোফাজ্জল হত্যা।
২০১৬ সালে খালিয়ার চর গ্রামের যুবলীগ নেতা ডালিম হত্যা। ২০১৭ সালে কালাপাহাড়িয়া এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন হত্যা। এ মামলায় চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনকে আসামি করা হয়েছিল।
২০১৯ সালে অহিদুর রহমান ওরফে পরশিদ হত্যা মামলা। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, খালিয়ার চর গ্রামে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের মদদে ইউসুফ, শাহীন, ইমান আলী, আবু কালাম, মনির, ইমন, সাইদুল, জসিম, রবি, আল আমিন, রুমান, রিপন, শুক্কুর আলী, মোজাম্মেল, পাবেল, আজগর, বেদন, নাদিমের অত্যাচারে ১২০টি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে রাজধানীর হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব বিষয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সামনে ইউনিয়ন নির্বাচন হবে। তাই আমাকে অযোগ্য করার উদ্দেশ্যেই এসব উদ্দেশ্যমূলকভাবে করানো হচ্ছে।